জিয়াউর রহমান ৪ নম্বর বিশ্বাসঘাতক: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৫:০৩
 
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু খন্দকার মুশতাককে তৃতীয় ও জিয়াউর রহমানকে চতুর্থ নম্বর বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, খন্দকার মোস্তাক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাস বিকৃতি করে। এরই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান ইতিহাস বিকৃতি এবং গণতন্ত্রকে নস্যাত্ করেছিল। আর তাদের উত্তরসূরি খালেদা জিয়াও এখন গণতন্ত্র হত্যাসহ জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার বিভিন্ন অপকৌশল গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ৩৯তম সাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নাশকতার পথ ছেড়ে খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়া ও জামায়াত মিলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে। তবে এটা সফল হবে না। এ দেশে হয় খালেদা জিয়া ও তার দোসর রাজাকাররা থাকবে, না হয় আমরা থাকব। হয় এসপার, না হয় ওসপার। এখানে মাঝামাঝি থাকার কোনো পথ নেই। তবে আমরা যত দিন ক্ষমতায় থাকব তত দিন গণতন্ত্রের ইতিহাস সঠিক পথে থাকবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন আমাদের স্বাধীনতার ইমাম। আর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সবাই তার অনুসারী। বঙ্গবন্ধুকে যারা বাংলাদেশের স্থপতি, প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে অস্বীকার করেন, তারা বিশ্বাসঘাতক ও বেঈমান। ইতিহাসের আঁঁস্তাকুড়ে একদিন তারা নিক্ষিপ্ত হবেনই।
হাসানুল হক ইনু বলেন, নাশকতার ও মিথ্যাচারের রানি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো আপোস কিংবা সমঝোতা হবে না। তাকে এ দেশে রাজনীতি করতে হলে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদ-রাজাকারদের ছেড়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নয় তো মীর জাফরদের কাতারে চলে যাবেন।
ইতিহাস বিকৃতিকারীদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাতির পিঠে পিঁপড়া আত্মকথা লেখতে পারে, কিন্তু ইতিহাস লিখতে পারে না। বঙ্গবন্ধু হলেন হাতির মতো, তাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস হয় না। মিথ্যার চাদরে বাংলাদেশকে ঢেকে রাখলে গণতন্ত্র হোঁচট খাবে। কিন্তু জনগণ সত্য ইতিহাস চর্চা করেন। তারা জানেন সঠিক ইতিহাস, তাই বিকৃতিকারীদের সঙ্গে তারা নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, তারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে হত্যা করেছে। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতরা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে।
ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সেলিম ওমরাও খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ, সমিতির সদস্য সাংবাদিক পি আর বিশ্বাস, শ্যমল কান্তি জয়ধর, জয়ন্ত আচার্য প্রমুখ।