কাশ্মিরিদের সুরক্ষা দিতে প্রশাসনকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৩২

কাশ্মীরিদের নিগ্রহের ঘটনায় ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির কাছে।  দেশের সর্বত্র কাশ্মীরিদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গসহ ১০ রাজ্যের প্রশাসনকে নির্দেশ দিলো। এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলোর মুখ্যসচিব এবং ডিজিপিকে (দিল্লির ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারকে)।

অন্তর্বর্তী রায়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, কাশ্মীরিরা কোথাও হুমকি, হেনস্থা বা সামাজিক বয়কটের মুখে পড়লে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেক কাশ্মীরির নিরাপত্তা। এই অন্তর্বর্তী রায়ের বিষয়ে বিশদ জানতে শীর্ষ আদালতে রাজ্যের আইনজীবী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের রূপরেখা শিগগিরই স্থির করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন, কাশ্মীরিদের উপরে কোনো অত্যাচার সরকার বরদাস্ত  করবে না। রাজ্যগুলোর মুখ্যসচিবদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। পাঠানো হয়েছে ‘অ্যাডভাইজরি’। মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠিও লিখেছেন।

কাশ্মীরিদের সুরক্ষা চেয়ে মামলাটি করেছেন আইনজীবী তারিক আবিদ। আবেদনে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ের মন্তব্যের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন:‘‘দাঙ্গা, গণপিটুনি রুখতে যে পুলিশ আধিকারিকদের নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, কাশ্মীরিদের উপর আক্রমণ ঠেকানোর দায়িত্বও তাদের। শুধু মারধর নয় তাদের কোনো রকম নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে কি না বা সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে কি না তাও দেখতে হবে।’’ আদালতের এই নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ছত্তীশগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি। রায়কে স্বাগত জানিয়ে ওমর আবদুল্লা টুইট করেছেন:‘‘সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞ। দিল্লির নির্বাচিত নেতৃত্বের যা করার কথা, শীর্ষ আদালত তা করল।’’ মেহবুবা মুফতি লিখেছেন: ‘‘এটা লজ্জার, অন্যেরা চোখ বুঁজে ছিলেন। বিচার ব্যবস্থাকেই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হলো।’’

ইউজিসি এদিকে কাশ্মীরি ছাত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চিঠি পাঠিয়েছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কাশ্মীরি ছাত্রদের আতঙ্ক দূর করতে শিক্ষকদের ‘কাউন্সেলিং’ শুরু করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বলছে, কাশ্মীর থেকে এঁরা তো প্রধানমন্ত্রীর নামে বা অন্য সরকারি বৃত্তি নিয়েই পড়তে গিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ শাসক শিবিরের লোকজনই তাদের তাড়াতে চাইছে! -সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা