ছায়ানটের শরত্ বন্দনা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৭:২৮
 
 
গানের হূদয় আকুল করা সুরের দোলায় ভেসে সবাই বরণ করল সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে আসা মেঘ, কাশের দোলা আর কাসর ঘণ্টার স্মৃতিমেদুর শরেক। ছায়ানট শনিবার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করে এ সুরে সুরে শরত্ অঞ্জলি অর্পণ অনুষ্ঠানের।
শরত্ বন্দনার মঞ্চও সাজানো হয়েছে চারপাশে কাশের গুচ্ছ দিয়ে। দর্শকদের পোশাকেও ছিল নীল-সাদা রঙের প্রভাব। মেয়েদের খোঁপায় ছিল শিউলির মালা। শরতের স্নিগ্ধ সকালে এই আয়োজনে ছিল না কোনো বক্তৃতা। নানা বয়সী মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করে সে অনুষ্ঠান।
ঘড়ির কাঁটা ৭টার ঘর ছুঁতেই সম্মেলক কণ্ঠে নৃত্যের সঙ্গে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘পোহাল পোহাল বিভাবরী,/ পূর্বতোরণে শুনি বাঁশরি/ নাচে তরঙ্গ, তরী অতি চঞ্চল, কম্পিত অংশুককেতন-অঞ্চল,/ পল্লবে পল্লবে পাগল জাগল আলসলালস পাসরি।’ মূলত এই গানটি মধ্য দিয়ে শুরু হয় উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর একক ও সম্মেলন গান এবং নৃত্যের মধ্য দিয়ে চলে ছায়ানটের শিল্পীদের সুরে সুরে শরত্ অঞ্জলি। প্রথমে একক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন অমিয়া হাসান। গাইলেন ‘দেখো, দেখো, দেখো শুকতারা আঁখি মেলে চায়’। তার পরেই ছিল শিশুশিল্পীদের পরিবেশনা। ‘শরত, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’ সম্মেলক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয় শিশুশিল্পীরা। এর পর একে একে সঙ্গীত পরিবেশন করে শরতের সকালটি আরো মধুর করে তোলে শিল্পীরা। দর্শক-শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে শিল্পীদের একের পর এক পরিবেশনা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন। একক গানের পালায় উম্মুল ওয়ারা বিনতে নাঈম শোনান ‘বাজিল, কাহার বীণা মধুর স্বরে’। সুশান্ত রায় গাইলেন ‘আমার মনের মাঝে যে গান বাজে’। এর পর ‘শরতে আজ কোন্ অতিথি’ গানের সঙ্গে সম্মেলক নৃত্যগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের জ্যেষ্ঠ নৃত্যশিল্পীরা। এ নাচের পর সুতপা সাহার কণ্ঠে শোনা গেল ‘তোমার নাম জানি নে, সুর জানি’ গানটি। ‘এবার অবগুণ্ঠন খোলো’ গানটি পরিবেশন করেন অভিজিত্ দাস। মারুফা মঞ্জরী সৌমী গাইলেন ‘হেলাফেলা সারাবেলা’। বেনজির হাফিজার কণ্ঠে শোনা গেল ‘আমারে ডাক দিল কে ভিতর পানে’। একগুচ্ছ গানের পর নৃত্য নিয়ে আবারো মঞ্চে হাজির ছোট শিল্পীরা। ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’ গানের সঙ্গে নেচে নেচে শরত্বন্দনায় মেতেছিল তারা। আবার একক গানের পালা। এবার বিক্রম দাস শোনালেন ‘কোন খেলা যে খেলব কখন’। ফারজানা আক্তার পাপ্তি শোনান  ‘আজি মেঘ কেটে গেছে সকালবেলায়’। মানস ভট্টাচার্য গাইলেন ‘সকরুণ বেনু বাজায়ে কে যায়’, অর্পিতা সাহা ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’, মোস্তাফিজুর রহমান তুর্য ‘আমার রাত পোহাল শারদপ্রাতে’। ছায়ানটের জ্যেষ্ঠ নৃত্যশিল্পীরা আরো সম্মেলন গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। গান দু’টি ছিল ‘শরত-আলোর কমলবনে’ ও ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়’।

আয়োজনের শেষ দিকে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। শিল্পীদের সঙ্গে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাও দাঁড়িয়ে দেশবন্দনা করেন। সবশেষে ছিল শরত্কালীন গ্রামীণ খাবার, খই আর বাতাসা আপ্যায়ন।