যৌন হয়রানির দায়ে শিক্ষকের কারাদণ্ড

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৫:২৬

 ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অপরাধে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেনকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল শনিবার ওই দণ্ড দেন।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। গতকাল সকালে তিনি পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে যান। এ সময় তিনি এক ছাত্রীর কাছে বিদ্যালয়ে দুই দিন অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তিনি শ্রেণিকক্ষেই অন্যদের সামনে ছাত্রীর গায়ে হাত দেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান। পরে কাঁদতে কাঁদতে ওই ছাত্রী শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে ঘটনাটি অভিভাবকদের জানায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে লোকজন বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে থানা-পুলিশ ও শিক্ষা কর্মকর্তা বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে লোকজন তাঁর শাস্তির দাবিতে অটল থাকলে তাঁরা উদ্ধারে ব্যর্থ হন। বিকেল চারটার দিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়ার পর এলাকাবাসী শান্ত হন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
ইউএনও তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষককে থানায় আনার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। এ জন্য তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিকেলেই তাঁকে রাজশাহী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে কথা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক ইসরাইল হোসেনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, তাঁকে বিদ্যালয় থেকে তাড়ানোর জন্য এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির আরও তিন ছাত্রী জানায়, প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গেও প্রায়ই অশোভন আচরণ করতেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মকছেদ আলী জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরোনো। আগে তাঁর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েও লাভ হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।