গাইবান্ধায় হাসপাতালে ভাঙচুর, লুটপাট

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:২৬
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী চন্দিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাসপাতালে শনিবার রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে স্থানীয় জনগণ। ওই প্রতিষ্ঠানে এমএলএস পদে কর্মরত স্থানীয় আজাদুল ইসলাম আজাদ গত মঙ্গলবার ঢাকা অফিসে জরুরি কাজে গিয়ে শনিবার পর্যন্ত বাড়ি ফিরে না আসায় উত্তেজিত এলাকাবাসী এ ঘটনা ঘটায়। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই নারী চিকিৎসক, ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের উদ্ধার করে।
 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চন্দিয়া হাসপাতালে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকার আমীর আলীর মুন্সির ছেলে আজাদুল ইসলাম আজাদ (৩০) এমএলএস পদে চাকুরি করছেন।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড শাখার (চন্দিয়া) সভাপতি নজরুল ইসলাম ও আজাদুল ইসলাম আজাদের স্ত্রী শাহানাজ বেগম জানান, অফিসের জরুরি কাজের কথা বলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাইবান্ধা আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক কাওসার আলী রেজা আজাদুলকে ঢাকা পাঠান। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে না আশায় গাইবান্ধা আঞ্চলিক অফিস ও চন্দিয়া হাসপাতালে খোঁজ নিলে তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম কথা বলেন। এছাড়া তার মোবাইল ফোনটি শনিবার থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ধারণা করছে তাকে হত্যার পর গুম করা হয়েছে।
 
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাইবান্ধা আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক কাওসার আলী রেজা জানান, সম্প্রতি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাভার ট্রেনিং সেন্টার থেকে তিন বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক স্বাস্থ্য কর্মীর সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই স্বাস্থ্য কর্মীর সনদটি জাল। মাত্র আট মাস ট্রেনিং করে ওই স্বাস্থ্য কর্মী সাভার ট্রেনিং সেন্টার ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অর্থের্ বিনিময়ে দিনাজপুরের কাজী সেলিম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এমএলএস আজাদুলের নিকট থেকে ওই জাল সনদটি সংগ্রহ করেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে তদন্তের স্বার্থে আজাদুলকে গত মঙ্গলবার ঢাকার সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ওখান থেকে শনিবার সকালে পালিয়ে যান।
 
এদিকে তার স্বজনরা এলাকায় আজাদুলের গুমের খবর ছড়িয়ে ওইদিন দুপুরেই হাসপাতালটি ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই নারী চিকিৎসক, ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জনগণের বাধার মুখে ফিরে আসে। পরে রাত আটটার দিকে গাইবান্ধা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে শর্টগানের ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের উদ্ধার করে। এর পরপরই এলাকাবাসী হাসপাতালটিতে দ্বিতীয়বার ব্যাপক ভাঙচুর করে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাইবান্ধা আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক কাওসার আলী রেজা আরো জানান, আজাদুল পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
 
ওসি মসিউর রহমান আরো জানান, এ ঘটনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাইবান্ধা আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক কাওসার আলী রেজা বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় মামলা করেছেন।