ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ অর্ধশত আহত

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৫:৩২
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফি মোল্লাকে লাঞ্চিত করার রেশে রবিবার সকালে দুই ইউনিয়নের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
 
তিন ঘন্টাব্যাপী চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চুমুরদী ইউনিয়নের পুর্বসদরদী গ্রামের ১০/১২ টি দোকান ঘর ও ৮/১০ বসতঘর ব্যাপক ভাঙচুর করে মালামাল লুটে নেয় শফি চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। এ সময় পাঁচ পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশত গ্রামবাসী আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, থানার উপ-পরিদর্শক মজিবর রহমান, দবির, আজাদ ও কনেস্টবল আল-আমিন, জামাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় গ্রামবাসীদের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
 
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জেলা সদর থেকে আনা অতিরিক্ত পুলিশ মোড়ে মোড়ে মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের রিপন, শাহআলম ও শুকুর নামের তিন যুবককে আটক করেছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।
 
জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকালে ঘারুয়া প্রাইমারি স্কুল মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফি মোল্লা এবং চুমুরদী ইউনিয়নের কুটি সেক পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। সে সময় সজিব সেকের নেতৃত্বে একদল যুবক চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভাঙ্গা থানা পুলিশ রাতেই সেখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রবিবার সকালে ঘারুয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার জনতা একত্রে মিলে কুমার নদীর পাড়ে জড়ো হয়। সে সময়ও সংঘর্ষ বাধে। সংর্ঘষে আহতরা হলেন, গুলিবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা সহকারী কমান্ডার তারা মোল্লা(৬৫), সিরাজুল(৩০), লিটন মোল্লা(৩৪), চঞ্চল(২২) ও বাবুল এছাড়া চেয়ারম্যানের ভাই ওবায়দুর মোল্লা(৩৫), ইব্রাহিম সেক(২৫) , রাজু সেক(২০), ছামাদ(৩০), আঃ মালেক(৪৫), হবি খলিফা(৫০), শাহাদাৎ(৩০), টুকু মিয়া(৩০), হাবিব(২০), আছাদ(৩৫), সেলিম(২০) ও হান্নান মাষ্টার(৪০)।