পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ!

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:৪২

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঁচ দিন চিকিৎসা শেষে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ফাঁড়িটির এক পুলিশ সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে।
সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা নির্যাতিতা ওই নারী অভিযোগ করেন, ২২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য তিনি সিলেট যান। রাত বেশি হওয়ায় মাজার এলাকায় রাতযাপন করতে যান তিনি। সেখানে তিনজন লোক উপস্থিত হয়ে তাকে ‘পুলিশ ফাঁড়ির সাহেব ডাকছে’ বলে ডেকে নিয়ে যায়। দরগাহের পুকুরপাড়ে দ্বিতীয় তলায় পুলিশ ফাঁড়ির কার্যালয়ে ঢোকার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া তিন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে। পরে ফাঁড়িতে কর্তব্যরত নায়েক কামাল হোসেনসহ তিনজন তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে রাত দুইটার দিকে ফাঁড়ি থেকে বের করে দেয়। দরগাহ এলাকায় রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। তাৎ​ক্ষণিক তাঁকে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে রোববার সিলেট কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করলে উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মো. মুবাশ্বির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ‘অজ্ঞাত’ উল্লেখ করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফাঁড়িতে কর্তব্যরত কামাল হোসেন নামের এক পুলিশসদস্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁকে রক্ষা করতে সব আসামিকে অজ্ঞাত রেখেছে পুলিশ।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি (নারী) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়। তাতে তিনি ধর্ষিতা হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এরপর ওসিসির আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ওই নারী থানায় অভিযোগ দেন।