গৌরনদীর ৬ যুবক ভারতের জেলে

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৪, ১৭:০৬
আদম ব্যাপারির প্রতারণার শিকার হয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি গ্রামের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ৬ যুবক নয় মাস ভারতের চেন্নাইয়ের জেলে রয়েছেন। ওইসব প্রতারিত যুবকদের পরিবার সহায় সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসেছে।
ভারতের বাংলাদেশ হাই কমিশনার অফিস থেকে আটককৃতরা বাংলাদেশি কিনা সনাক্ত হলেই জেল খানা থেকে তারা মুক্তি পাবে বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী  ইউনিয়নের বেজগাতি গ্রামের প্রতারিত সাইফুল ইসলাম জাহারুল কবিরাজের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘গ্রামের নাসির উদ্দিন কারিকরের পুত্র মন্নান কারিকরের সাথে আমার স্বামী জাহারুল ও ভাই পলাশ মৃধাকে ভাল চাকুরি দিয়ে সৌদি আরব নেয়ার জন্য দশ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমরা জমি ও ব্যাংক লোন ও নগদ ধার দেনা করে দশ লক্ষ টাকা আদম ব্যাপারীর হাতে তুলে দেই। মন্নান ও তার সহযোগীরা ভারতীয় জাল পাসর্পোট ও ভিসা দিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি তামিলনাডুর চেন্নাই এয়ারপোর্ট দিয়ে আমার স্বামীকে (জাহারুল) সৌদি আরব পাঠানোর চেষ্ঠা করেন। এসময় এয়ার পোর্টের ইমিগ্রেশন পুলিশ জাহারুলসহ ছয়জনকে আটক করেন।
পলাশ মৃধা জানান, এক পর্যায়ে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বিষয়টি তার পরিবারবর্গদের জানালে পরিবারের লোকজন আদম ব্যাপারির বাড়িতে গিয়ে মন্নানের বসত ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান।
মন্নান কারিকরের একাধিক মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম মুঠো ফোনে বলেন, ‘আমার স্বামী আটককৃতদের মুক্তি করে সৌদি পাঠানোর চেষ্ঠা করছেন।’
 বরিশাল জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মো. মাহে আলম মুঠো ফোনে বলেন, ভারতের জেলে আটককৃত সাইফুল ইসলামের ঠিকানা যাচাই বাচাই করে প্রতিবেদন গত ৭ আগস্ট ঢাকা বিশেষ শাখায় (এসবি) ফ্যাস্কের মাধ্যমে প্রেরণ করেছি (যার স্বারক নং ২৫৫৩)।’