গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র জামায়াত নেতা নুরুন্নবী প্রামানিক ওরফে সাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ আদেশ জারি করা হয়। পৌরসভার প্যানেল মেয়র লুত্ফর রহমানকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বুধবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান জানান, গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে মেয়র কোন সভা করেননি। সভা না করেই তিনি আইইউআইডিবি প্রকল্পের চেকে সই করে অর্থ ছাড় করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে চেক ও রেজিস্ট্রারে সই করেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত মোট ৫১ লাখ টাকার বিপরীতে প্রকল্প গ্রহণ ও কোন প্রকার দরপত্র আহবান করা হয়নি। অথচ ওই প্রকল্পের টাকা পৌরসভার নিজস্ব হিসেবে জমা রাখা হয়। পৌরসভার দশজন কাউন্সিলরের এ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হলে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ৩১ (১) বিধান মতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে প্যানেল মেয়র লুত্ফর রহমানকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব খলিলুর রহমান এ আদেশ জারি করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরসহ বামনডাঙ্গা বন্দরে তান্ডব চালায়। ঐ ঘটনায় পৌর মেয়র নুরুন্নবী প্রামানিককে বামনডাঙ্গা পুুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশ হত্যাসহ ১১টি নাশকতার ঘটনার মামলার আসামি করা হয়। এরপর গ্রেফতারের ভয়ে তিনি গা ঢাকা দেন। কিন্তু আত্মগোপন অবস্থায় তিনি পৌরসভার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। সম্প্রতি তিনি জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে আটক আছেন। চার পুলিশ হত্যা মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ সেপ্টম্বর পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
