পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুস্থদের মধ্যে ১৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ওই সব চাল বিতরণের পর দেখা যায়, বেশির ভাগ চালই পচা, দুর্গন্ধযুক্ত ও খাওয়ার অযোগ্য। এমন চাল দেখে দুস্থ লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গতকাল পৌর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, পচা চাল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লোকজন। এ সময় ক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন মেয়র। ভালো চাল সংগ্রহ করে পুনরায় বিতরণের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
গৌরনদী খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যানরা পচা চাল দেওয়ার প্রতিবাদ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁদের চাল পরিবর্তনের আশ্বাস দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দুই হাজার দুস্থ পরিবারের জন্য ২০ টন, বার্থীর এক হাজার ৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮ টন, চাঁদশীর ৯৫৮ পরিবারের জন্য সাড়ে নয় টন, মাহিলাড়ার এক হাজার ১৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১১ টন, বাটাজোরের এক হাজার ৭৪০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৭ টন, নলচিড়ার এক হাজার ৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮ টন, সরিকলের এক হাজার ৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮ টন ও গৌরনদী পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের চার হাজার ৬০০ পরিবারের জন্য ৪৬ টনসহ মোট ১৬০ টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গৌরনদী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অশোক কুমার জানান, গত দুই দিনে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এবং পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে ১৪২ টন চাল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাওয়ার অযোগ্য হওয়ায় নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা তাঁর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সাড়ে ১৮ টন চাল গ্রহণ করেননি।
গোলাম হাফিজ মৃধা বলেন, ‘দুস্থদের জন্য যে চাল দেওয়া হয়েছে তা খাওয়ার অযোগ্য, পচা ও দুগন্ধযুক্ত। তাই ওই চাল গ্রহণ করিনি।’
ভিজিএফ কর্মসূচির সুবিধাভোগী গৌরনদী পৌর এলাকার বানিয়াশুরী গ্রামের রহমান সরদার বলেন, ‘খয়রাতি চাল নিয়ে বারবার মোগো লগে উপহাস করা হয়। আবারও ভিজিএফ হিসেবে খাবার অযোগ্য ও পচা চাউল দেওয়া হয়েছে।’ কসবা গ্রামের মনির মুন্সি বলেন, ‘দিনের কামাই বন্ধ কইররা আইছি, কিন্তু চাউল পাই নাই। আবার এক দিনের কাম বন্ধ কইররা আইতে অবে। সব সময় মোগো লাইগ্যা পচা চাল দেয়। এর কোনো বিচার অয় না।’
জানতে চাইলে গৌরনদী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) আবদুস সালাম বলেন, গত বছরের জুন মাসে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় মিলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা মো. ফরহাদ মুন্সী অধিক লাভের আশায় তৎকালীন গুদাম কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে চাল গুদামজাত করান।
এ বিষয়ে ফরহাদ মুন্সীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। ইউএনও মো. মাসুদ হাসান পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চাল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
