দিল্লি-ওয়াশিংটন পাশাপাশি চলবে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৪, ১৬:১২
 চলব পাশাপাশি। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা হোক বা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার রোধ- সব ব্যাপারেই হাতে হাত মিলিয়ে এগোতে চায় বারাক ওবামার আমেরিকা ও নরেন্দ্র মোদীর ভারত। ভারত-আমেরিকার যৌথ বিবৃতিতে দেয়া হয়েছে এমন প্রতিশ্রুতি। মঙ্গলবার ওবামা-মোদী প্রায় দু’ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করেন। এরপর যৌথ বিবৃতি দেন তারা। শুধু এক সঙ্গে চলার অঙ্গীকারই নয়, তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিশ্বের কাছে ‘মডেল’ হিসেবে তুলে ধরতে চান দুই নেতা।
ওবামা-মোদীর যৌথ বিবৃতিতেও গুরুত্ব পেয়েছে সন্ত্রাসবাদ ও ইবোলা মোকাবিলাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দু’দেশের গণতন্ত্রকে ভিত্তি করে উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আশ্বাস মিলেছে উভয় পক্ষ থেকে। ভারতের সফল মঙ্গল অভিযানের পর দু’দেশের প্রধানের এই বৈঠকের জন্য ওবামাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, সমগ্র বিশ্বের লাভ হবে।
তবে, দু’ দেশের যৌথ বিবৃতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার বিষয়টি। যৌথ বিবৃতিতে মোদী-ওবামার বক্তব্য, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা চালিয়েছি আমরা। ভারত-আমেরিকা কূটনীতিক সম্পর্ক সমৃদ্ধি ও শান্তি স্থাপনের যৌথ প্রচেষ্টা। পারস্পরিক আলোচনা, প্রযুক্তি আদান-প্রদান ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্বকে নিরাপদ করে গড়ে তুলব। একসঙ্গেই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করে নিজেদের দেশ ও দেশবাসীকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করব। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা কোনও সঙ্কটের মুহুর্তে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেব। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার রোখার পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষেত্রে পরমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধেও আমরা বদ্ধপরিকর। সারা বিশ্বে রাষ্ট্রশক্তিকে সুষ্ঠুভাবে স্থাপন করার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা থাকবে, আর এই বহুমাত্রিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দুই প্রধানের আলোচনায় আর্থিক উন্নয়নের বিষয়টিও যে উঠে এসেছিল, তা স্পষ্ট যৌথ বিবৃতি থেকে। তাতে বলা হয়েছে, আমরা দু’দেশের আর্থিক বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করার আশ্বাস দিচ্ছি। আমাদের নাগরিকরা শিক্ষাকে ভালো জীবনযাপনের পথ বলে মনে করেন। পারস্পরিক শিক্ষার আদান-প্রদান আমাদের দু’দেশকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
গতকাল ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা হবার আগে মোদী পাঁচদিনের এই সফরকে ‘সফল ও সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটনে শেষ কর্মসূচী শেষে আমেরিকাকে ধন্যবাদ জানান মোদী। কর্মসূচী শেষ করে তিনি দেশে ফেরার জন্য সরাসরি বিমানবন্দরে যান। খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।