‘বস্তায় ভরে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে নদীতে’

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৪, ১৬:১৭
 অপহরণ করে হত্যার পাঁচ দিন পরও লাশ পাওয়া যায়নি কেরানীগঞ্জের হতভাগ্য স্কুলছাত্র আশিকের (৯)। তবে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হওয়া অপহরণকারী মোহাম্মদ মিলন (২২)। গতকাল বুধবার আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, ‘আশিককে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। নদীতে তখন ভাটার টান ছিল।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল আশিক। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে খেলার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আশিক। পরের দিন তার বাবা শহীদুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। আর ওই দিনই মোবাইল ফোনে তার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী। ছেলেকে জীবিত পেতে হলে তাড়াতাড়ি টাকার ব্যবস্থা করতে বলে। কিন্তু আশিকের বাবার অত টাকা দেয়ার সঙ্গতি নেই। তাই বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় কেরানীগঞ্জের জিনজিরা নামাবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় সে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। গতকাল মিলনকে আদালতে পাঠালে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।
পুলিশ সুপার জানান, তিনি নিজেই মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কিন্ত তার দেয়া তথ্য মতে, লাশ ফেলে দেয়ার সময় নদীতে ছিল ভাটার টান। ফলে লাশ ভেসে হয়তো অনেক দূর চলে গেছে। তারপরও আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবর রহমান জানান, ইতিমধ্যে লাশ উদ্ধারের জন্য ডুবুরি দলকে জানানো ও আশপাশের থানাগুলোতে খোঁজ নেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে খুন: জিজ্ঞাসাবাদে মিলন জানায়, এক সময় আশিকের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন একই বাড়িতে ভাড়া ছিল সে।  আগে সদরঘাটে দর্জি শ্রমিকের কাজ করলেও কয়েক  মাস যাবত সে বেকার ছিল। সংসার নিয়ে অভাবে দিন কাটছিল। তাই সে পরিকল্পনা করে, আশিককে  অপরহণ করলে হয়তো তার বাবা-মার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। ঘটনার দিন  আশিকসহ এলাকার অন্য ছেলেরা নামাবাড়ি লাট মিয়ার ক্লাব ঘরের সামনের সড়কে ফুটবল খেলছিল। কৌশলে অন্য ছেলেদের বাড়ি পাঠিয়ে আশিককে নিয়ে মিলন ক্লাব ঘরে ঢুকে। আশিক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। আশিক চিত্কার দিলে সে তার মুখ চেপে ধরে। এক পর্যায়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় আশিক। পরে তার লাশ বস্তায় ভরে বালতির মধ্যে ঢুকিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর ব্যাংকঘাট এলাকায় ফেলে দেয়া হয়। এসময় নদীতে ছিল তীব্র ভাটার টান। পরে আশিকের বাবার কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে মিলন।  তবে নিহত আশিকের ভগ্নিপতি ইকবাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গ্রেফতারকৃত মিলন ও মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবিকারী ব্যক্তির কণ্ঠস্বর এক নয়। যে কারণে আমরা ধারণা করছি, ঘটনার সাথে আরো একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। আমরা তাদেরও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে আশিক ছিল সবার ছোট। বাবা শহীদুল ইসলাম পুরনো ঢাকার আরমানিটোলায় পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার এনায়েতনগর মাঝিরকান্দি এলাকায়। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার নামাবাড়ির প্রয়াত সেরু মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।