কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের পাগলীর বিল এলাকায় বজ্রপাতে তিনজন ও পাশের গ্রাম লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের পাগলির আগা এলাকায় মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। পৃথক বজ্রপাতে শিশুসহ আহত হয়েছেন আরো আটজন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে উপজেলার মালুমঘাট খ্রিস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে ঘটেছে এ বজ্রপাতের ঘটনা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুটাখালী ইউনিয়নের পাগলীরবিলের কোনাপাড়া গ্রামে মিন্টুর চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় লোকজন গল্প করছিলেন। ওইসময় হঠাত বজ্রপাত সৃষ্টি হয়ে দোকানের উপর পড়ে। এতে দোকানের ভেতর গল্পরত তিনজনের মৃত্যু ঘটে ঘটনাস্থলে। ওসি আরো বলেন, নিহতরা হলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে বন বিভাগের হেডম্যান আলী আহমদ (৪৮), কোনাপাড়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে নূরুল হুদা (৩৫) ও এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে আজগর আলী (৩৮)। ওসি বলেন, ওইসময় দোকানের ভেতর থাকা আরো ৭জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, স্থানীয় জাকের আহমদের ছেলে রফিক আহমদ(৪৫), আসমত উল্যার স্ত্রী আয়েশা বেগম(৩০), সেলিম উল্যা’র শিশু কন্যা আমিনা বেগম (৭), মোঃ জাবেরের দুই শিশু কন্যা জন্নাতুল ফেরদৌস(৮) ও তসলিমা বেগম(৬), খোকা’র ছেলে হাসান মিয়া (৪), ও আমিন শরীফের ছেলে আবুল কালাম (৩৫) ও লামার পাগলির আগা’র আবদুল কুদ্দুছের স্ত্রী জন্নাত খাতুন(৩৫)। তাদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয় মালুমঘাট খ্রীষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একই সময়ে ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার দুরত্বে পাশের গ্রাম লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাগলির আগা এলাকায় একটি বসত ঘরে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে নাসিমা আক্তার (১৩) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপর লামা উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিকেলে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের দাফনের ব্যবস্থা করেছেন।
