দশমাস গর্ভে ধারণের পর যে সন্তানকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখিয়েছেন সেই মা তার সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হত্যার পরিকল্পনা নেয়। পরকীয়ায় জড়িয়ে গিয়ে এ হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়। রাজধানীর ডেমরায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গত ১২ আগস্ট ডেমরার বাড়ির সামনে থেকে কামরুজ্জামানের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় পুত্রের লাশ দেখে বারবার মূর্ছা গিয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম (৪৭)।
সেই মরিয়ম বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক আবদুল আজিজসহ চারজনকে বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মরিয়ম বেগমকে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশান শাখায় সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, মরিয়মের সঙ্গে আজিজের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, তার সন্তান বিয়ে করে সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি বালু ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে। মাস ছয়েক আগে তার মায়ের পরকীয়ার কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তার মাকে বাবার সামনে শাসিয়ে ছিলেন। গত ১২ আগস্ট মরিয়ম বেগম মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে জানান যে, তিনি খিদমাহ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সে অনুযায়ী কামরুজ্জমান ওই রাতে ৮টার দিকে খিদমাহ হাসপাতালে যান তার মায়ে সঙ্গ দেখা করতে। পরে হাসপাতালের ভেতর থেকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বালুর ব্যবসার কথা বলে বাইরে নিয়ে যায় আবদুল আজিজ। পরে হাসপাতালে রাখা একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়। সেখানে কামরুজ্জামানকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কফি খেতে দেয়। এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আজিজ ও তার দুই সহযোগী তোফাজ্জল ও মোবারক শ্বাসরোধ করে কামরুজ্জামানকে হত্যা করে। পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে তার লাশ রাস্তার পাশে ফেল দিয়ে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ড ঘটার পরপরই মরিয়ম বেগম বাড়িতে ছুটে আসেন।
মাসুদুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর রাতেই মরিয়ম বেগম এই কাজের জন্য আজিজকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে তাদের একে অপরের সঙ্গে অনেকবার মোবাইল ফোনে কথা এবং অনৈতিক সম্পর্ক হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মরিয়ম বেগমকে আটক করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজে এখন অনুতপ্ত।
