ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের কাছে জিম্মি আরেক ব্রিটিশ নাগরিক অ্যালান হেনিংয়ের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা। শুক্রবার এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। খবর: বিবিসি ও রয়টার্সের।
ভিডিও সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অ্যানাদার ম্যাসেজ টু আমেরিকা ও ইটস এলিস’ শিরোনামে প্রকাশিত ঐ ভিডিওর সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ইউটিউবে প্রকাশ করা ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। তার পেছেনে কালো পোশাক পরিহিত এক জঙ্গি দাঁড়িয়ে আছে। এর আগে একইভাবে দুই জন আমেরিকান সাংবাদিক ও একজন ব্রিটিশ সাহায্যকর্মীর শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।
শিরোশ্ছেদের আগের ভিডিওগুলোর মতো হেনিংকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা গেছে। বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমাদের পার্লামেন্টে ইসলামিক স্টেটে হামলার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, একজন বিট্রিশ নাগরিক হওয়ার জন্য আমি এর মূল্য দিচ্ছি।’
ব্রিটিশ উচ্চারণে একটি পুরুষ কণ্ঠ বলে, ‘ডেভিড হ্যান্সের রক্ত আপনার হাতে লেগে আছে ক্যামেরুন। অ্যালান হেনিংকেও হত্যা করা হবে। তবে তার রক্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টর হাতে লেগে থাকবে।’
হেনিংয়ের শিরশ্ছেদের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, আইএস জঙ্গিদের বর্বরতার যে সীমা নেই, এই ভিডিও সেটাই প্রমাণ করে। হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই ব্রিটেন করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই মৃত্যু সিরিয়ার মানুষ আর যুক্তরাজ্যের বড় ক্ষতি।
৪৭ বছর বয়সী উত্তর ইংল্যান্ডের ট্যাক্সিচালক হেনিং গত ডিসেম্বরে সিরিয়া থেকে অপহৃত হন। সেময় তিনি সেখানে শরণার্থীদের জন্য সাহায্য সরবরাহের কাজ করছিলেন।
এর আগে আমেরিকান সাংবাদিক জেমস ফলি আর স্টিফেন শটলফ এবং একজন স্কটিশ সাহায্যকর্মী ডেভিড হেইন্সের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করে আইএস।
মি. হেইন্সের শিরশ্ছেদের ভিডিওতে অ্যালান হেনিংকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। এরপরে তার পরিবারের সদস্যরা হেনিংকে মুক্তি দেয়ার জন্যে জঙ্গিদের কাছে আবেদন জানান।
ভিডিওতে আরেকজন জিম্মিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা, যাকে একজন আমেরিকান নাগরিক বলে সনাক্ত করা হয়েছে।
