মন্ত্রীদের জন্য আচরণবিধি চান সুরঞ্জিত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:৩৫
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মুখ থেকে বেফাঁস কথা ঠেকাতে তাদের নির্দিষ্ট আচরণবিধির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মন্ত্রীদের কথাবার্তা, চালচলন, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আচরণবিধি আছে। তাই আমাদের দেশেও একটা বিধিমালা করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের আচরণ শুধু রাজনৈতিক হলেই হবে না, তাদের আচরণ সামাজিকও হতে হবে। কারণ তাদের আচরণ শুধুমাত্র অনুশীলনীয়ই নয়, অনুসরণীয়ও বটে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের রাজনীতিতে বেয়াদবি ও উদ্ধত ব্যবহার পরিহার করতে হবে। লতিফ সিদ্দিকী সম্প্রতি হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি করে রাজনীতির মাঠ গরম করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার  প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে সবকিছু পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে, এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য থাকে না। সুরঞ্জিত বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র যতদিন থাকবে ততদিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কিছু বেফাঁস কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারকে আমি একটি আচরণবিধি করার পরামর্শ দিচ্ছি। তা না হলে মাঝে মাঝে এ ধরনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ ও দলকে বিব্রত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। তিনি বলেন, আদালতের বিচারকদেরও একটা আচরণ বিধি থাকে। তবে মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করানোর সময় তাদের আচরণবিধি সম্পর্কে জানানো হয়। কিন্তু তা অনেকে মানেন না।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মন্ত্রীদের আচরণ অনুকরণীয় ও শিষ্ঠাচারপূর্ণ হতে হবে। তারা যা ইচ্ছে তা করতে বা বলতে পারবে না। বর্তমানের এ সমস্যাটি জাতীয়ভাবে ভাবতে হবে। তবেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মুনির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।