দলে লতিফের থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত রবিবার

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৪, ১২:৪১
 
 
 
ডাক, টেলিযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী যে মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু দলীয় পদের ক্ষেত্রে তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী রবিবার। ঐ দিন বৈঠকে বসছে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্ষদ ‘কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ’। এখান থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যেও এই ইঙ্গিত রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় একজন নেতা জানিয়েছেন, ১২ অক্টোবরের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।
 
২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।’ হজ সম্পর্কে বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’
 
লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অন্তত দুই ডজন মামলাও হয়েছে। বিএনপিসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
 
পরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেই শুক্রবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লতিফ সিদ্দিকী আর মন্ত্রীসভায় থাকবেন না। তিনি বলেন, আমি নির্দেশ দিলে রিজাইন (পদত্যাগ) করতে হবে। নইলে বিদায় করে দিতে হবে। কিন্তু বিদায় দিতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ফাইল পাঠাতে হবে। রাষ্ট্রপতি হজে গেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হজে গেছেন। আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ফাইল তৈরি করে রাখতে বলেছি, অফিস খুললে ফাইল চলে আসবে।
 
 লতিফকে দল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাদ দিতে হলে তা নিয়ে দলে আলোচনা করতে হবে। অভিযোগ তুলে ধরে আলোচনা করতে হবে। ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিতে হবে।