আইএস কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারে উদ্বেগ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৪, ১২:৪০
 
ইরাকের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট তাদের কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এখনই এই সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের বড় উত্থান ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সেমিনারে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিনটন ব্রাউন উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশকে অপার সম্ভাবনার দেশ হিসাবে উল্লেখ করলেও বাংলাদেশের সঙ্কট বাস্তবভিত্তিক বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কিনটন ব্রাউন আরো বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার। ইউএসএইডের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র। যে তিনটি খাতকে প্রাধান্য দেয়া হবে তা হচ্ছে জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির নিউইয়র্ক এভিনিউর ওয়েস্ট টাওয়ারে যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে ওয়াশিংটন ডিসির থিংক থ্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএএস)। দুই পর্বের এই সেমিনারে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন বিআইপিএএস-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনীরুজ্জামান ও সহকারি রিসার্চ ফেলো সাফকাত মুনীর, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক পিয়াস করিম এবং আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট-এর কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে এই সেমিনারে বক্তারা দেশটির উন্নয়নে প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী দেশসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আহ্বান জানান। 
বিআইপিএএস সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান বলেন, দেশে ভয়াবহ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে এখন। আইএসসহ নানান সংগঠনের জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে ভয়াবহ নিরাপত্তা বাধা। আইএস ও একিউএস-এর হুমকি রয়েছে বাংলাদেশে। তারপরও রয়েছে অপার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির হুমকিসহ নানা বিষয় তুলে ধরে সেমিনারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, আমাদের অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছেও। কিন্তু দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, একদলীয় শাসনসহ নানা কারণে সেই উন্নতি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গিবাদের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
পিয়াস করিম আরো বলেন, যেকোনো দেশের জাতীয় রাজনীতি বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে আইএস সক্রিয় হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিআইপিএএস-এর ফেলো সাফকাত মুনীর বলেন, সম্প্রতি ইসলামিক স্টেট তাদের কর্মী নিয়োগ করছে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে। ভারত মিয়ানমার থেকে লোক এসে ভর্তি হচ্ছে এই জঙ্গি সংগঠনে। তাদেরকে এখনই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সেমিনারে প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল কাইমেট এন্ড সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান। 
দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা। এতে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স্টিফেন এ. চেনি।