হবিগঞ্জের মাধবপুরে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বেজুড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—রিনা বেগম (১৮) ও জালাল মিয়া (৭০)। এ সময় উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুঠপাটে চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৬০ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আরজু মিয়া মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির খানসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার বেজুড়া স্কুল মাঠে ফুটবল খেলার সময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আরজু মিয়ার ভাই আলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়ার সঙ্গে উপজেলা যুবদল সভাপতি এনায়েত উল্লার ভাই মহিব উল্লার ছেলে বশির মিয়ার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দু’পক্ষের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে বেজুড়া গ্রামের খুশিদ মিয়ার মেয়ে আনন্দ স্কুলের ছাত্রী রিনা বেগম খুন হন। অন্যদিকে একই গ্রামের মৃত ইছব আলীর ছেলে জালাল মিয়াকে প্রতিবেশি জজ মিয়ার বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন দা দিয়ে কুপিয়ে ডোবায় ফেলে রাখে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন লুটপাট করে বলে আভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় ফারুক শিয়া (৪৫), ফুল মিয়া (৩৬), আব্দুল হক (৪২), আলী আহাম্মদ (৬০), আবদুল আজিজসহ (৩৮) অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। অন্য আহতরা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে চিকিত্সা নিচ্ছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজমিরুজ্জামানের নেতৃত্বে তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ, কাশিমনগর ফাঁড়ি পুলিশ, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দে থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিন সার্কেল) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ২ প্লান্টুন দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৬০ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিন সার্কেল) সাজ্জাদ ইবনে রায়হান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম আজমিরুজ্জামান, উপ-পরিদর্শক হুমায়ুন, মোজাফফর আহাম্মেদ, শহীদুল ইসলাম পিপিএমসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম আজমিরুজ্জামান সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি আরজু মিয়ার মেম্বার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির খান, বিএনপির নেতা মহিব উল্লা, সায়েদ আলী, যুবলীগ নেতা মাসুদ খান, হাজী বাদশা মিয়া ও আলফু মিয়াকে আটক করে থানা হেফাজতে রেখা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
