ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে। সীমান্ত বাহিনীর পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে দুই দেশের ১৭ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ১৩ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৯০জন। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে বাকযুদ্ধও বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন এবং পাকিস্তানের হামলার সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। একই দিন ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরাও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। গতকালও সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বাকযুদ্ধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সীমান্ত এলাকার মানবিক দুর্যোগ। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডন’র।
সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে দোষারোপ করছে। গতকাল শুক্রবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহারাষ্ট্রে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এরপর তারা আর কোনোদিন আমাদের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না। আমাদের জোয়ানরা তাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গতকাল দেশটির সিনিয়র মন্ত্রীসহ সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় দেশই তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত। সমস্যা সমাধানে যুদ্ধ কোনো বিকল্প হতে পারে না। উত্তেজনা প্রশমনে উভয় দেশের নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পাকিস্তান চায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করতে। আর এজন্যই প্রধানমন্ত্রী মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ উপস্থিত হন। সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। পাকিস্তানে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, ভারতের যতই ক্ষতি হোক না কেন তারা এবার পিছু হটবে না। আর এতে উত্তেজনা বাড়বে বৈ কমবে না।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী খান বলেছেন, যে কোনো উপায়ে পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে ভারতের কর্তৃত্ব মেনে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করে এই অঞ্চলকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের মহাপরিচালক (পাঞ্জাব রেঞ্জ) মেজর জেনারেল তাহির জাবেদ খান বলেছেন, সীমান্তে ভারতের হামলা রাজনৈতিক কারণে হতে পারে। গত সোমবার থেকে ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর দুই দেশের হামলা পাল্টা হামলা চলছে। হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮ ভারতীয় নাগরিক এবং ৯ পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ভারতের সীমান্তে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৩২ হাজার মানুষকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্তের শতাধিক গ্রাম।
