মুষ্টি চালের মসজিদ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৯

নীলফামারীর সৈয়দপুরকে মসজিদের শহর বলা হয়। কারণ সৈয়দপুরের শহরে রয়েছে ছোট-বড় শতাধিক মসজিদ। ফলে সৈয়দপুর মসজিদ স্থাপত্যে অনন্য বৈশিষ্ট্যময়। আর নান্দনিক স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলীর জন্য সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ বেশ বিখ্যাত। দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে।

সৈয়দপুর শহরের চিনি মসজিদটির অনন্য সুন্দর নির্মাণশৈলীতে গড়া। এর রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। এতিহ্যবাহী ও সুরম্য এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৬৩ সালে। শহরের ইসলামবাগ এলাকায় হাজী বাকের আলী ও হাজী মুকুছন নামে দুই ব্যক্তি বাঁশ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু করেন।

পরে এলাকাবাসী মুঠো মুঠো চাল দিয়ে মসজিদটির নির্মাণকাজে সার্বিক সহায়তা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় তাদের পুরো ১ মাসের উপার্জন দান করে সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯২০ সালে মসজিদের ইমাম হাজী হাফিজ করিমের উদ্যোগে মসজিদটি দো-চালা টিনের ঘর করা হয়। তখন মসজিদটির সামনের অংশ পাকা করা হয়।

১৯৬৫ সালে মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। ১৯৬৫ সালে বগুড়ার একটি সিরামিক ফ্যাক্টরি মসজিদের জন্য প্রায় ২৫ টনের মতো চীনা মাটির পাথর দান করে। এছাড়াও তখন কলকাতা থেকে ২৪৩টি মর্মর পাথর এনে লাগানো হয়। ফলে এভাবেই মসজিদটি শহরের ইসলামবাগ এলাকায় গড়ে ওঠে। আর চীনা মাটির টুকরো দিয়ে তৈরি বলে এর নামকরণ করা হয় চীনা মসজিদ। পরে মুখে মুখে এটির নাম চিনি মসজিদ হয়ে ওঠে।

মসজিদের দেয়াল দেখতে চিনির দানা দিয়ে তৈরি মনে হয়। মসজিদের বাইরের ফলকে ফার্সিতে ‘চিনি মসজিদ, ইসলামাবাগ’ লেখা রয়েছে। মসজিদটির নয়নাভিরাম ৩২টি মিনার রয়েছে। এছাড়াও ৩টি বড় গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেয়ালে চীনা মাটির টুকরো দিয়ে ফুল-ফল ও গাছগাছালির নকশা রয়েছে। দক্ষিণের বারান্দাটি সম্পূর্ণ সাদা সিমেন্টের মোজাইক করা।

মসজিদের প্রবেশের জন্য উত্তর দক্ষিণে দুটি দরজা রয়েছে। দোতলায় মেহমান ও পর্যটকদের থাকার জন্য একটি কক্ষ রয়েছে। মসজিদটির অনন্য নির্মাণশৈলী  ও স্থাপত্য-সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সৈয়দপুরে অনেক লোকজন আসেন।

চিনি মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সাঈদ রেজা রিজভীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এই মসজিদে যারা নামাজ আদায় করতে আসেন তাদের বেশিরভাগই পর্যটক। মসজিদটি দেখে তারা ভূয়শী প্রশংসা করেন। জানতে যান এর নির্মাণের পেছনের কথা।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র হিটলার চৌধুরী ভলু জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের চোখে চিনি মসজিদ একটি অনন্য স্থাপত্য। মসজিদটি সংস্কারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণও দরকার। সরকার এ ব্যাপারে এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

এলাকার পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার মতে, চিনি মসজিদটি সৈয়দপুরের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে অনেক ক্যালেন্ডার ও বইয়ের প্রচ্ছদে চিনি মসজিদের ছবি ছাপা হয়। যা নিয়ে আমরা গৌরব করি। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একবার হলেও চিনি মসজিদটি দেখে যান।

 

যেভাবে যাবেন

বাস, বিমান বা ট্রেনযোগে সৈয়দপুর। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে ইসলামবাগে সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কের পাশেই মসজিদটি অবস্থিত।