নিষিদ্ধ বইয়ের গল্প

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৯

বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে এমন অনেক বিখ্যাত বই রয়েছে যেগুলো অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ‘বিখ্যাত’ শব্দটি নামের আগে যোগ করেছে। এমনই কয়েকটি নিষিদ্ধ বই নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন আশিক রিজভী

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন

মার্ক টোয়েন

 

মার্ক টোয়েনের ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’ ভাষার অজুহাত দেখিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। বইটি মূলত বর্ণান্ধতার কারণে মার্কিনিরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত এ বইয়ে শ্বেতকায় ছেলে ও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের বন্ধুত্ব দেখানো হয়, যা শ্বেতাঙ্গ শাসকরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি।

ইউলিসিস

জেমস জয়েস

 

সাহিত্যের ইতিহাসে অবাক করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিলেন জেমস জয়েস তার বিখ্যাত ইউলিসিস লিখে। তিনি ১৯০৪ সালে জুন মাসে মাত্র ১৮ ঘণ্টার ঘটনা (সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা) নিয়ে উপন্যাস লিখেছিলেন। উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়। উপন্যাসটির ৪৯৯ কপি পুড়িয়ে ফেলা হয়। উপন্যাসটি এত তথ্যবহুল ছিল যে, জয়েস বলেছিলেন ডাবলিন শহর যদি কোনোদিন ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে হুবহু শহরটি গড়ে তোলা যাবে তার এই ইউলিসিস থেকে। বইটি শুধুমাত্র উপন্যাস নয়, জীবন্ত ইতিহাসও বটে। বর্তমানে ইউলিসিস সেরা উপন্যাসগুলোর মধ্যে একটি।

হিস্ট্রি অব ইটালি

থমাস উইলিয়াম

 

১৫৫৪ সালে প্রকাশিত থমাস উইলিয়ামের ‘হিস্ট্রি অব ইটালি’ বইটি তত্কালীন ধর্মযাজকদের অনৈতিক কাজের জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে। তখনকার সময়ে যেহেতু চার্চই ছিল সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, তাই ধর্মযাজকদের দাপটও ছিল উচ্চপর্যায়ে। কেউ যেন কখনো যাজকদের অনৈতিকতা তুলে ধরতে না পারে তার দৃষ্টান্তস্বরূপ থমাসকে টুকরো টুকরো করে কেটে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট

এরিক মারিয়া রেমাক

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এক জার্মান সৈনিক, যিনি পরবর্তীতে পৃথিবীর সবচেয়ে অনুভূতিপ্রবণ ঔপন্যাসিকদের একজন হয়ে ওঠেন, তিনি এরিক মারিয়া রেমার্ক। তার রচিত বিখ্যাত যুদ্ধ বিরোধী উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ সেসময় জার্মানির সমরনীতি ও যুদ্ধের বীভত্সতার দিকে দুঃসাহসিক আঙুল তুলেছিল। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে নিষিদ্ধ করে জার্মান সরকার। অতঃপর ১৯৪১ সালে আরো একটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ক্রয়টজার সোনাটা

লিও টলস্টয়

 

লিও টলস্টয় এই বই লেখার আগে কোনো বিতর্কে ছিলেন না। তবে এই বইয়ের কাহিনি এ রকম যে, এক স্বামী তার স্ত্রীকে খুন করেন স্ত্রীর পরকীয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে। বইটি এখনো নিষিদ্ধ তালিকায় অবস্থান করছে।

প্রজাপতি

সমরেশ বসু

 

সমরেশ বসুর ‘প্রজাপতি’ অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৮ বছর বন্ধ থাকে বইটির প্রকাশ। লেখক বুদ্ধদেব বসু আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘যৌনতার কারণে ‘প্রজাপতি’ নিষিদ্ধ হলে বাইবেল, মহাভারতকেও নিষিদ্ধ করতে হয়।’ পরে বইটির ওপর থেকে সকল আইনি বাঁধা তুলে নেওয়া হয়।

বিশ্ব বিধান সম্পর্কে কথোপকথন

গ্যালিলিও গ্যালিলি

 

গ্যালিলিও গ্যালিলির ‘বিশ্ব বিধান সম্পর্কে কথোপকথন’ বইটিতে মহাবিশ্বের চরম সত্য ফুটে উঠলেও চার্চের তত্কালীন ধারণা ছিল পৃথিবী স্থির এবং অন্যসব গ্রহ-নক্ষত্র পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু গ্যালিলিও বলেন, পৃথিবীসহ অন্যসব গ্রহ-নক্ষত্র সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সত্য কথাটি চার্চের বিরুদ্ধে চলে যায়। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ পোপ অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যালিলিওকে বন্দি করার নির্দেশ দেন এবং বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। ১৬৪২ সালে গ্যালিলিও বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে বন্দিদশা থেকে এক কপি চালান করে ছিলেন স্ট্রসবুর্গ-এ, যা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যা ফেয়ারওয়েল টু আর্মস

আরনেস্টহেমিংওয়ে

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার আত্মজীবনীমূলক এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে ইটালিতে। উপন্যাসটিতে কাপোরেত্ত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইতালি সৈন্যদের পিছু হটার ঘটনাটি ভীরুতা হিসেবে উল্লেখ এবং অশ্লীলতার দায়ে আদালত বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

অ্যানিমেল ফার্ম

জর্জ অরওয়াল

 

জর্জ অরওয়ালের ‘অ্যানিমেল ফার্ম অ্যা ফেয়রি টেল’ বইটি মূলত সাংকেতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাশিয়ার স্টালিন যুগের ভয়াবহতাকে তুলে ধরা হয়। বইটি রাশিয়াতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর অ্যানিমেল ফার্ম নামে মার্কিন মুলুকে প্রকাশিত হয়।

এলিস‘স অ্যাডভেঞ্চার ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড

লুইসক্যারল

 

বইটি চীনে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও অদ্ভুত একটি কারণে চীনা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় ১৯৩১ সালে। হানান প্রদেশের একটি আইন ছিল যে, কোনো পশুর কণ্ঠে কোনোভাবেই মানুষের ভাষা তুলে দেওযা যাবে না, এতে পশুকে মানুষের সমমর্যাদায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু বইটিতে বিড়াল মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে, আর এজন্যই বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।

লেডি চ্যাটারিজ লাভার

ডিএইচ লরেন্স

 

ডিএইচ লরেন্স-এর বইটিতে ঘন ঘন দুটি অপ্রীতিকর শব্দ ব্যবহূত হওয়ায় বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। পরে অবশ্য বইটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হয়।