ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন? স্কুল, কলেজে দুর্দান্ত রেজাল্ট? যে কোনো বিষয়েই তুখোড় জ্ঞান। বিজ্ঞানের যে কোনো ফর্মুলা একবার শুনলেই, পরীক্ষার খাতায় গড়গড়িয়ে নামিয়ে দিতেন? না, কোনো লাভ নেই। দিনকে দিন মাথাটা ‘নিরেট’ হয়ে যাবে। যাবে বলাটাও ঠিক নয়। ইতিমধ্যে হতে নাকি শুরুও করেছে। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আর কয়েক বছর পরে মানুষের মতো বোকা জীব পৃথিবীতে আর থাকবে না। সে যতই মঙ্গলে যাক আর চাঁদে পতাকা জাপটে ছবি তুলুক! মানুষ নাকি আবার বনমানুষ হওয়ার পথেই এগোচ্ছে। বিশ্বের কয়েকজন জাদরেল বিজ্ঞানীর গবেষণার ফল অন্তত এমনই দাবি করছে।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা চালান একদল চিকিত্সা বিজ্ঞানী। সেই গবেষণার ফল বলছে, মানুষের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা (IQ) তার সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। আর বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনাই নেই। বরং আশঙ্কার বিষয় হল, এবার তা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। এবং একটা সময় মেধা একেবারেই লোপ পাবে। মস্তিষ্ক ফের আদিম গুহাবাসী মানুষের মতোই হয়ে যাবে। আঠারো বছর বয়সী বিশ্বের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করা হয়। সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মানুষের বুদ্ধিমত্তা দেড় পয়েন্ট কমেছে! এশিয়া থেকে ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব মহাদেশেই এই প্রবণতা দ্রুত শুরু হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধির হার সব থেকে বেশি হয়েছিল ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। দুঃখের বিষয়, ৮০ ‘সালের পর থেকে প্রত্যেক দশকে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ৩ পয়েন্ট করে কমেছে।
কিন্তু কেন এই উল্টোকাব্য? মানুষের বুদ্ধিমত্তা কমার জন্য আধুনিক জীবন-যাপনের বদঅভ্যাসকেই দুষছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, বর্তমান বিশ্ব এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গিয়েছে যে, মানুষ চিন্তা-ভাবনা করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। এর সঙ্গে দোসর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। যার জেরে, মানুষের বুদ্ধির বিকাশ কমছে। কিছু গবেষকের মতে, জিনগতভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের বুদ্ধিমত্তা কমবে। মস্তিষ্কের চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতা কমতে থাকবে।
