ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক চাপে রাখার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সোমবার অনলাইন পোর্টালটির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বাত্মক চাপে রাখার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিরোধিতাকারী মমতাকে রাজি করানোটা সহজ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নীতি গ্রহণ করেছেন, তখন ভারতের মাটি বাংলাদেশের জঙ্গিরা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করছে। এটি প্রতিবেশী দেশের জন্য প্রধান আলোচ্যসূচি। এই হামলার ফলে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা সংখ্যা আরো বাড়ানো ও বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা থেকে ত্রিপুরায় বাস চলাচলের প্রস্তাবটি থামিয়ে দিতে পারে। এই সড়কটি কলকাতা-ত্রিপুরা পথে পরিবহন খরচ অনেক কমাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকা-কলকাতা ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে একটি ভারতীয় ট্রেন মঙ্গলবার কলকাতা থেকে ঢাকায় যায় ও বুধবার কলকাতায় ফেরত আসে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি ট্রেন শুক্রবার কলকাতায় আসে ও শনিবার ফেরত আসে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্য একটি ভারতীয় ট্রেন রবিবার ঢাকা যাবে ও সোমবার কলকাতায় ফেরত আসবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ঢাকার একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনই কোনো ট্রেন বৃদ্ধি করার ইচ্ছা নেই।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার ভাষ্যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতার কারণে ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরে এসে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে পারেননি। এমনকি ঐ সময় মমতা মনমোহনের সফরসঙ্গীও হননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পানি বণ্টনের বিরোধিতা করা মমতার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক সুবিধা দেবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ‘জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, হাসিনা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াতের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে দেখছে যে, জামায়াত শেখ হাসিনার ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে কিনা।
শনিবার জামায়াত তাদের ওয়েসাইটে বর্ধমান হামলার সঙ্গে ও জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
