বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে লেবু জাতীয় ফল সাতকরার সরবরাহ বেড়েছে। এই অঞ্চলের জনসাধারণের খাবার তালিকায় এটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি, প্রধানত সিলেট অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে সাতকরার কদর খুবই বেশি। মূলত স্বজনদের মাধ্যমে তারা বিদেশে বসেও এই ফলটির স্বাদ নিতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসী তাদের আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে এটি পাওয়ার জন্য সব সময় উদগ্রীব থাকেন। অনেকে দেশে আসলে চড়া মূল্যে প্রিয়জনের জন্য কিনে নিয়ে যান। লন্ডনের বাংলাদেশি কোন কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও সাতকরাসহ লেবু জাতীয় অন্যান্য সিলেটি ফল ও মরিচ পাওয়া যায়। তবে খাবার প্রক্রিয়া না জানায় দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর নিকট সাতকরা এখনও অনেকটাই অপরিচিত নাম।
তবে সিলেট অঞ্চলের অনেক গৃহিণী সাতকরা দিয়ে টক তরকারি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। সাতকরা শুকিয়ে মাংসের তরকারি কিংবা ডালে পরিমাণমত ব্যবহার করা যায়। এতে তরকারিতে আলাদা সুগন্ধ পাওয়া যায়। আবার আন্দাজ মতো ব্যবহার করতে না পারলে তা বিস্বাদ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ইদানিং সাতকরার আচারও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সাতকরা বর্তমানে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাতকরা ছাড়াও গাঢ় সবুজ রঙের গোলাকৃতি আদা-জামির, জাজি লেবু ও নাগা মরিচ সিলেট অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়। আদা-জামির কেবল টক তরকারিতে ব্যবহার করা হয়। বাজারে আদা-জামিরের হালি ৬০ থেকে ১০০ টাকা। জাজি লেবু দেখতে অনেকটা কুমড়া আকৃতির। মধ্যম আকৃতির প্রতিটি জাজি লেবুর ওজন ১ কেজি বা তার চেয়েও বেশি। জাজি লেবু প্রতি হালি ৫/৬শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে এই লেবুতে অন্যান্য লেবুর মত রস নেই। জাজি লেবুর বহিরাবরণ স্থানীয়ভাবে ‘ঠনা’ নামে পরিচিত। ভাত খাওয়ার সময় লেবুর একটি ছোট ফালি বা টুকরা সালাদের মত খাওয়া হয়। জাজি লেবু মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত।
‘নাগা মরিচ’ স্থানীয়ভাবে ‘কামরাঙ্গা মরিচ’ নামেও পরিচিত। দেশি মরিচের চেয়ে আকৃতিতে বড় ও গোলাকৃতির নাগা মরিচ গাঢ় সবুজ রঙের যা পরিপক্ব হলে লাল রঙ ধারণ করে। নাগা মরিচ প্রতি হালি ২০/২৫ টাকা বা তারো বেশি দরে বিক্রি হয়। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারেও নাগা মরিচ বিক্রি হয়। এছাড়া নাগা মরিচের আচারও কিনতে পাওয়া যায়। ভরা মৌসুমে সাতকরা, আদা-জামির, জাজি লেবু ও নাগা মরিচ উল্লেখিত দরে বিক্রি হলেও অন্য সময়ে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য স্থানের তুলনায় বিপুল সংখ্যক ইংল্যান্ড প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ উপজেলার বাজারে এগুলো বেশি পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বিদেশে আত্মীয়-স্বজনের নিকট পাঠানো হয়।
সাতকরা, আদা-জামির ও জাজি লেবু বৃহত্তর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় উত্পন্ন হয়। ভারতের আসাম রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায়ও এগুলোর প্রচুর ফলন হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে সাতকরাসহ উল্লেখিত লেবু জাতীয় ফল ও মরিচের উত্পাদন বাড়িয়ে তা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
