উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। এসব ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ায় কৃষকদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। আগাম আমন ধানের ফলনও হয়েছে ভাল। কৃষকরা বলছেন, আগাম আমন চাষে মঙ্গা উধাও হয়ে গেছে।
ধানের দাম ভাল থাকায় চাষীদের মন উত্ফুল্ল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে মজুরি বেশি থাকায় কৃষি শ্রমিকরা রয়েছে চাঙ্গাভাবে। দিন হাজিরায় আড়াই থেকে তিনশ’ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে উত্পাদন ধরা হয়েছে ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ’ ৬৩ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে আগামজাতসহ হাইব্রিড চাষ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে।
বাঙালির নবান্নের উত্সবের আমন ধানই হলো ‘নবান্নের’ ধান। এবারের আমন আবাদের শুরুটা মোটেও ভাল ছিল না। প্রথম থেকেই কৃষকের মধ্যে ছিল শঙ্কা। প্রথমত, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব, দ্বিতীয়ত, অকাল বন্যা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের মাথায় পড়েছিল হাত। আমনের যে টার্গেট তারা করেছিল তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কাই দেখা দেয়। বর্ষাকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর আকাশে কালো মেঘের আনাগোনায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তার পর বন্যার আঘাত। সব কিছু মোকাবেলা শেষে মাঠ ঘুরে দেখা যায় আমনের ফলন এবার ভালই হবে।
কিশোরগঞ্জের কৃষক সামাদ মিয়া জানান একশ’ টাকায় যে শ্রমিক দিন হাজিরায় কাজ করত এবার তারা আড়াইশ’ টাকার নিচে কাজ করছে না। কোন কোন স্থানে তিন বেলা খাওয়াসহ ৩শ’ টাকা হাজিরা পাচ্ছেন। বাস্তবতায় অগ্রহায়ণ মাসের আমন ওঠার আগে আগাম জাতের অনেক ধানের আবাদও হচ্ছে উত্তরাঞ্চলে। সেই ধান এখন ঘরে উঠছে। আগাম এই আবাদ উত্তরাঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাসের অভাব (যা মঙ্গা নামে পরিচিত) দূর করেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি-৩৩ ও বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত বিনা-৭ ধান আমনের আগে ফলন দিয়েছে। ব্রি-৩৩ ও বিনা-৭ আবাদে খরচ তেমন নেই। বিঘাপ্রতি উত্পাদন ১৬ থেকে ১৮ মণ।
কৃষি বিভাগের নীলফামারী অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসিন রেজা রূপম জানান আগাম আমন ধান আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষকরা বর্তমান সময় তাদের মঙ্গা দূর করে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরো জানান, উত্তরাঞ্চলের রংপুর কৃষি অঞ্চলের আট জেলায় ১৭ হাজার ১৯৫ কৃষক সরকারি ভাবে প্রণোদনা পেয়েছেন।
