হুদহুদে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৪, ২১:৪৬
 
ঘূর্ণিঝড় হুদহুদের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা রাজ্য। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। এদিকে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় চার লাখ লোককে ত্রাণ দেয়ার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার বন্দরনগরী বিশাখাপত্তনমসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে করেছেন। তিনি ক্ষতি গ্রস্তেদর জন্য এক হাজার কোটি রুপি দেয়ার ঘোষণা করেছেন।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ঘোষণা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এতে বন্যা দেখা দেয়ারও আশংকা করা হচ্ছে। 
রবিবারের ঝড়ের আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় মারা গেছে ২৪ জন। এর মধ্যে কেবলমাত্র বিশাখাপত্তনমে মারা গেছে ১৫ জন। এছাড়া ঝড়ে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে। গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি উপড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে ছয় হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি।
উদ্ধারকর্মী ও সৈন্যরা রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ ও খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজও শুরু করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমান ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে বিমান বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার প্যাকেট ফেলা শুরু করেছে। এদিকে বিশাখাপত্তনমের বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে। ঝড়ে বিমানবন্দরের ছাদের একাংশ উড়ে গেছে এবং রানওয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য পেট্রল স্টেশনে লোকজন লম্বা লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। সোমবার এসব স্টেশন খুলে দেয়া হয়। ঝড়ে অনেক স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশাখাপত্তনম আমার খুবই পছন্দের শহর। কিন্তু এর বর্তমান দশা দেখে আমি ব্যথিত।’ 
একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘সুন্দর এ নগরীর পুনর্নির্মাণে আমাদের অন্তত একশ’ বছর লাগবে।’
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এছাড়া রয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট।
খবর-এনডিটিভি, এএফপি, রয়টার্স