মাদকের আগ্রাসন রুখতে হবে

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটের এক টঙ্গের দোকানে আট বছরের এক ছেলে। তাকে চা দিতে বলায় ভুল করে একটা সিগারেট দিয়ে দেয়। তাকে হেসে বলি, আমি সিগারেট খাই না, ছেলেটা জিজ্ঞেস করে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না? হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন অথচ সিগারেট খান না! বিশ্বাস হয় না। ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া একটা ছেলের চিন্তা-চেতনায় বিচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সিগারেট খাওয়া একটা ফ্যাশনের অংশ ।

অথচ অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস নামে আইনে স্বীকৃতি থাকলেও তা আইনের সূচিতে সীমাবদ্ধ। নাই কোনো আইনি পদক্ষেপ। যার ফলশ্রুতিতে ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়া এখানকার ক্যাম্পাস জীবনে ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে ৩৪টি পাবলিক ও ৭১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মাদক নিয়ন্ত্রণে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বলা হয়, কমিটি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট হবে। এ ছাড়া ঐ সময় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের এ নির্দেশনা কতটুকু কাজে এসেছে তাই সন্দিহান সচেতন মহল।

মাদকবিষে জর্জরিত হয়ে শেষ হচ্ছে বহু মেধাবীর জীবন। শিক্ষা জীবন ছেড়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করছে মেধাবীরা। অকালেই ঝরে পড়ছে জাতির ভবিষ্যত্ কর্ণধাররা। স্কুল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পর্যন্ত চলছে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৫ বছরের নিচে মোট ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ শিশু মাদকের ভয়াল ছোবলের শিকার।

সম্প্রতিক কক্সবাজারে ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে। খুশির সংবাদ হলেও কতটুকু মাদকের আগ্রাসন কমবে তাই নিয়ে সন্দিহান সচেতন মহল। কেননা গণমাধ্যম সূত্রে আরও জানা যায়, শীর্ষ গডফাদাররা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মনোবিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে, মাদক সরবরাহ বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। মাদক সমস্যার সমাধানে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া দরকার। জনসচেতনতা তার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান ভূমিকা পালন করতে পারে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়