উেকাচ ছাড়া মিলছে না সেচ সংযোগ তাড়াশে কৃষকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৪

তাড়াশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেচ সংযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। শনিবার দুপুরে রমজান আলী নামে এক সংযোগ প্রত্যাশী কৃষক তার স্কিমের সামনে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি তাড়াশ বিলিং এরিয়া অফিসের ইন্সপেক্টর আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেয় আরও অর্ধশতাধিক কৃষক।

উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আরঙ্গাইল গ্রামের ভুক্তভোগী ওই কৃষক বলেন, নিয়মানুযায়ী ১শ’ ২৫ ফুট দূরত্বের মধ্যে একটি বৈদ্যুতিক সেচ সংযোগের জন্য গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তিনি সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিস বরাবর আবেদন করেন। একই গ্রামের আবু হাসেম নামে আরেক কৃষক ২৭ ডিসেম্বর তার (রমজান আলীর) স্কিমের কাছেই বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে কমপক্ষে ৩৫০ ফুট দূরত্বে সেচ সংযোগের জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরও একটি আবেদন করেন।

তাদের দু’জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত মাসের ১২ তারিখে সংযোগ দেওয়ার স্থান পরিদর্শনে যান ইন্সপেক্টর আব্দুল হামিদ। সেখানে গিয়ে তিনি তার (রমজান আলীর) কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা উেকাচ চেয়ে বসেন।

ভুক্তভোগী ওই কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন যাবত্ তার আবাদি জমিগুলো ২টি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করছেন। অথচ আবু হাসেমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উেকাচ পেয়ে গত কয়েক মাস আগের নতুন স্কিমে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। ওই স্কিমের দূরত্ব বেশি হওয়ায় ইতোমধ্যে দুটি নতুন খুঁটি পোঁতা হয়ে গেছে।

তবে কৃষক আবু হাসেম বলেছেন, নিয়মের মধ্যেই তিনি সেচ সংযোগ পেয়েছেন। 

এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলতি মাসেই আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাড়াশ বিলিং এরিয়া অফিসের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) আব্দুল হামিদ বলেন, এসব বিষয়ে অফিসে কথা বলুন।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. কামরুজ্জামান বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। সংশ্লিষ্ট অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আবু হাসেমের সংযোগ বাতিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।