সুপার লিগেই ফিরতে চান তাসকিন

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৭

সময়টা দারুণ যাচ্ছিল। ইনজুরি থেকে ফিরে দারুণ ফর্মে এসেছিলেন। নিউজিল্যান্ডগামী বাংলাদেশ দলে ডাকও পেয়েছিলেন। কিন্তু যে বিপিএল দিয়ে ফর্মে ফিরলেন, সেই বিপিএলেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেন তাসকিন আহমেদ। লিগামেন্টের ইনজুরিতে এখন চলছেন ক্র্যাচে ভর দিয়ে।

হাল ছাড়ছেন না অবশ্য তাসকিন। নিজের অনেকটাই উন্নতি দেখছেন দেশের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলার। বলছেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগ দিয়েই খেলায় ফিরতে চান।

গতকাল নিজের অবস্থা বলতে গিয়ে তাসকিন বলছিলেন, ‘আল্লাহ রহমতে এখন বেটার। তিন সপ্তাহ শেষ হলো। আমি এতদিন ক্র্যাচে করে হাঁটছি। কাল থেকে ইনশা আল্লাহ ক্র্যাচ ছাড়া হাঁটব। আর রিহ্যাব প্রোগ্রামের একটু আপগ্রেড করার শিডিউল দিয়েছে। এক্সারাসাইজ আরও বাড়াবো।’

ঢাকা লিগের সুপার লিগ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে তাসকিন বলছিলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আমিও আশা রাখি। কোনো প্রবলেম না হলে সব কিছু এভাবে স্মুথলি চলতে থাকলে ডেফিনিটলি সুপার লিগ থেকে খেলতে পারব।’

বিপিএলে যে ছন্দ ছিল, তাসকিন আশা করছেন, ওই ছন্দটা ধরে রাখতে পারবেন। সে জন্য যা করার দরকার, সেটা করতে চান, ‘আসলে রিদম তো ভেরি ইম্পরট্যান্ট। মেইন জিনিসটা হলো ভালো খেলার পেছনে মানুষের আত্মবিশ্বাস। ওইটা ঠিক আছে। আমি বিপিএলের বোলিং ভিডিও গুলোও দেখি, একটু মন খারাপ হলে যখন মনে হয় যে খেলতে পারছি না, যখন মনে হয় যে নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলতে পারলাম না। তবে ঠিক আছে এটা পার্ট অফ লাইফ। সামনে যেহেতু আমার স্বপ্ন আসছে। সেটার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা করব।’

তাসকিনের এখন স্বপ্ন প্রিমিয়ার লিগে ভালো করে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রাখা, ‘আসলে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হলে আমি আমার বেস্ট দিতে চেষ্টা করব। আমার ওয়ার্ল্ড কাপ স্কোয়াডে যেন সুযোগ হয়। ওয়ার্ল্ড কাপ স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়াও তো সহজ কিছু না। এটাও কঠিন। হয়তো বিপিএলে ভালো খেলার কারণে একটা অপরচুনিটি ক্রিয়েট হয়েছে কিন্তু এখনো চ্যালেঞ্জ আছে, সুস্থ থাকা, লীগে সুযোগ হলে ভালো খেলা। তারপর আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে। তো ডেফিনিটলি বাংলাদেশ দলে খেলা ও ধরে রাখা অনেক টাফ চ্যালেঞ্জ।’

তাসকিনের সামনে অনুপ্রেরণা আছে। বারবারই ইনজুরিতে পড়ার পর বলেছেন, তিনি মাশরাফিকে দেখে শিখেছেন। তার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক দফায় দফায় এই লিগামেন্ট ইনজুরিতে পড়ে আবার ফিরে এসেছেন। এবার ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে তাই মাশরাফির কথাই ভেবেছেন তিনি। এই ইনজুরির হতাশা নিয়ে বলতে গিয়ে বলছিলেন, ‘এটা তো অবশ্যই ফাস্ট বোলারের জন্য হতাশার। তবে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। আমার যেই রোল মডেল, মাশরাফি ভাই, তিনি অনেক স্ট্রাগল করে লিজেন্ড হয়েছেন। তো এটা মানতে হবে, ফাস্ট বোলার হিসেবে ইনজুরি আসবে। যত দ্রুত কামব্যাক করা যায় ততই ভালো। এই যে বললেন, সময়ের কথা। কিন্তু মেন্টালি টাফ থাকলে কম সময়েও কামব্যাক করা যায়। ইনশা আল্লাহ আমি পারব।’