জীববিজ্ঞান
আসাদ উজ জামান, শিক্ষক
সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
শ্বাসনালী সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ:
এ্যাজমা বা হাঁপানী (Asthma)ঃ
লক্ষণ :
১. হঠাত্ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
২. শ্বাসকষ্টে দম বন্ধ হয়ে যেতে চায়, ঠোঁট নীল হয়ে যায়, গলার শিরা ফুলে যায়।
৩. রোগী জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে, এসময় বুকের ভিতর সাঁই সাঁই আওয়াজ হয়।
৪. ফুসফুসের বায়ুথলিতে ঠিকমতো অক্সিজেন সরবরাহ হয় না ফলে রোগীর বেশি কষ্ট হয়।
৫. কাশির সাথে কখনও কখনও সাদা কফ বের হয়।
৬. শ্বাস নেওয়ার সময় রোগীর পাঁজরের মাঝে চামড়া ভিতরে ঢুকে যায়।
৭. রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রতিকার ঃ
১। চিকিত্সায় এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। তবে ঔষধ সেবনে রোগী কিছুটা আরামবোধ করে।
২। যেসব খাদ্য খেলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় সেগুলো না খাওয়া।
৩। আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
৪। যেসব জিনিসের সংস্পর্শ হাঁপানী বাড়ায় তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। যেমন- পশুর লোম, কৃত্রিম আঁঁশ ইত্যাদি।
৫। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা নেওয়া ও সাবধানতা অবলম্ব করা।
৬। ধুমপান, গুল , সাদা পাতা , জর্দা ইত্যাদি ব্যবহার পরিহার করা।
৭। শ্বাসকষ্টের সময় রোগীকে তরল খাদ্য খাওয়ানো।
ব্রংকাইটিস (Bronchitis )
শ্বাসনালির ভিতরে আবৃত ঝিল্লীতে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণকে ব্রংকাইটিস বলে। ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণে ঝিল্লীগাত্রে প্রদাহ হয়। একবার ব্রংকাইটিস হলে বার বার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে । সাধারণত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
কারণ ঃ ধুমপান, অস্বাস্থ্যকর ও দূষণ রোগের কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন- কলকারখানার ধূলাবালি ও ধোঁয়াময় পরিবেশ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্যাঁতসেঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা ও ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।
লক্ষণ
১। কাশি , বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হয়।
২। কাশির সময় রোগী বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে।
৩। জ্বর হয়, রোগী ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪। শক্ত খাবার খেতে পারে না।
৫। কাশির সাথে অনেক সময় কফ বের হয়।
প্রতিকার
১. ধুমপান, মদ্যপান, তামাক বা সাদাপাতা খাওয়া বন্ধ করা।
২. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর চিকিত্সা করানো।
৩. রোগীকে সহনীয় উষ্ণতা ও শষ্ক পরিবেশে রাখা।
পুষ্টিকর তরল ও গরম খাবার খাওয়ানো। যেমন- ৪.গরম দুধ, স্যুপ ইত্যাদি।
৫. রোগীর পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া।
প্রতিরোধ
১.ধুমপান, মদ্যপান ও তামাক সেবনের মতো বদাভ্যাস ত্যাগ করা।
২. ধুলাবালি ও ধোয়াপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা থেকে বিরত থাকা।
৪. শিশু বা বয়স্কদের যেন মাথায় ঠান্ডা না লাগে সেদিকে নজর রাখা।
