সরকার ও বিরোধীদের যুদ্ধংদেহী অবস্থান লাতিন আমেরিকান দেশ ভেনিজুয়েলাকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিরোধী নেতা হুয়ান গুওয়াইদো ২৩ জানুয়ারি নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর দুই আমেরিকা মহাদেশ ও ইউরোপের অনেকগুলো দেশ তার প্রেসিডেন্সিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। চলমান আন্দোলনের মুখে কোণঠাসা অবস্থায় পড়লেও নিকোলাস মাদুরো এখনও ক্ষমতা ধরে রাখতে অনড় রয়েছেন। তার কথা- যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতে বিরোধীরা দেশে নৈরাজ্য তৈরি করছে।
ভেনিজুয়েলায় মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী— সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ সীমান্তের ওপারে কলম্বিয়ায় দরদাম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এ অবস্থায় মাদুরোর বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি কলম্বিয়া ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা গুয়াইদোকেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া। মাদুরো কিন্তু এই ত্রাণ কিছুতেই তার দেশে ঢুকতে দেবেন না। তার বক্তব্য: যুক্তরাষ্ট্র ত্রাণের নামে ভেনিজুয়েলায় সেনা ঢোকাতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই মাদুরোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
ত্রাণকে কেন্দ্র করে ২৩ ফেব্রুয়ারি কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে গুয়াইদোর সমর্থক ও ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। কারণ এদিন সীমান্তের কাছে কলম্বিয়ার ত্রাণ বহর অবস্থান করছিল। এ ব্যাপারে মাদুরো দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন যে, এই ত্রাণ যারা নেবেন, তারা নিজ দায়িত্বেই এমন কাজ করবেন। তার এ হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও প্রতিবাদে অটল থাকে সাধারণ মানুষ। শনিবার বহু সংখ্যক ভেনিজুয়েলাবাসী সেখানে জড়ো হয়ে দাবি তোলে তাদের কলম্বিয়ায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। মাদুরোর কড়া নির্দেশ, সীমান্ত কোনোমতেই খোলা যাবে না। বৃহস্পতিবার তিনি ব্রাজিলের সঙ্গে তার দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিন সীমান্ত শহর উরেনায় এক সমাবেশে বক্তৃতা করেন গুয়াইদো। সীমান্তরক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ত্রাণ ঢোকার অনুমতি দিন। সীমান্ত থেকে সরে দাঁড়ান। সাধারণ মানুষকে সীমান্তের ওপারে যেতে দিন। আপনারা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।’ সীমান্তের একটি অংশ থেকে রক্ষীরা সরে গেছে, এমন খবরও পাওয়া যায়। এর আগে ৩৫ বছর বয়সী অন্তর্বর্তী নেতা গুওয়াইদো টুইটারে সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক ব্রিজের ওপর মোতায়েন সৈন্যদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। ওই ব্রিজটি ভেনিজুয়েলাকে কলম্বিয়াকে যুক্ত করেছে।
ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত ইস্যুতে সরকারের অবস্থান কিছুটা শিথিল করা হতে পারে। দলের একজন শীর্ষ পর্যায় নেতা বলেছেন, সাধারণ লোক যদি সীমান্তের ওপারে গিয়ে ত্রাণ নিয়ে ফিরে আসে তবে সরকার কিছুই করবে না। কুকুটা নামে আরেকটি সীমান্ত শহর থেকেও মাদুরো বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের খবর এসেছে। ৫০টির বেশি দেশ গুওয়াইদোর প্রেসিডেন্সিকে স্বীকৃতি দিলেও ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের উত্তরসূরী হিসেবে ২০১৩ সালে তিনি ক্ষমতাসীন হন। মার্কিন বিরোধী জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে চাভেজ দেশে বিদেশে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু মাদুরো সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। ট্রাম্প সম্প্রতি দেশটির সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ না করলে সবকিছু হারাতে হবে।
