বাস্তবতার জীবন-বৈচিত্র্যে প্রতিটি মানুষই নিজেকে আবিষ্কার করতে চায় বহুরূপময়তায়। স্বপ্নের উচ্চশিখরে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে ঘাত-প্রতিঘাত আর সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝে স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামীর। প্রতিনিয়ত স্বপ্ন গড়ে স্বপ্ন ভাঙ্গে, স্বপ্নের মাঝেই নিজেকে খুঁজেফিরে বারবার সেই সপ্নের চারণভূমিতে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে কেউ কেউ বিচরণ করে আবার কেউ স্বপ্নেই বিভোর থাকে সারা জীবন। মানব জীবনের মহাকাব্যিক যাত্রায় পদে-পদে প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার বেড়াজালে আপন মহিমায় বদলায় মানুষের চিন্তা চেতনা, তার পরও নিজেকে সঠিক জায়গায় অতিক্রান্ত করতে নিজেকে খুঁজে বেড়ায় প্রতিনিয়ত।
সমাজ সংস্কৃতি, সভ্যতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট সামাজিক দায়বদ্ধতা বাস্তব পরাবাস্তব, পাওয়া না পাওয়ার প্রতিচ্ছবি ইট-কংক্রিটের নগরজীবনের সংগ্রাম, শহরের নানা গল্প, ফ্রেমেবন্দি টুকরো টুকরো সময়, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের না বলা কথা আশা-হতাশার হাতছানি আর সমাজবেষ্ঠিত মানুষের চারপাশে অজস্র ঘটনাবহুল জীবনের খণ্ড-খণ্ড চিত্র নিজের অনভূতির শব্দমালার ডালা সাজিয়েছেন চিত্রকলার মধ্যে তরুণ শিল্পী মনজুর রশীদ। তার ‘সার্সিং মাইশেলফ’ নিজেকে খুঁজছি শিরোনামে প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গত ২১ অক্টোবর আঁলিয়স ফ্রসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে।
তরুণ শিল্পী মনজুর রশীদ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদ থেকে সদ্য একাডেমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে সমসাময়িক চিত্রকলায় নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নিলেন কতটুকু তা দর্শকরাই বিচার করবেন?
মনজুরের কাজে প্রাতিষ্ঠানিক ঘরানা থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় । শিক্ষাজীবনের শেষের দিকে তার নিরীক্ষাধর্মী কাজের প্রতিফলন বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে তিনি অন্বেষণ করেছেন বহুমাত্রিকতায়। শিল্পের মাধ্যমে খুঁজেছেন আত্মজিজ্ঞাসার উত্তর-পারিপার্শিক আর কালের গহিনে মানুষের চরিত্রগুলো স্থির করেছেন রং-তুলির আঁচড়ে, হাতড়ে বেরিয়েছেন নিজেকে চেনা-জানার সব উত্তর।
মনজুর বিষয়বস্তুু নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানব-মানবীর মুখায়বের সাথে পারিপর্শিক চরিত্রবেষ্টিত কম্পোজিশন করেছেন। মানুষের জীবনে বাস্তবতা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি, অন্তরগহিনের আকুতি মুখায়বে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। একি ব্যক্তির সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে এক্সপ্রেশন তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন। কোনো কোনো কাজে ফিগার-বেষ্টিত অর্ধ ফিগার আবার শুধু মুখমণ্ডলেও নিজেকে খুজেছেন পার্থিব জীবনে। রং রেখার ব্যাবহারেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, ছবির বিষয়বস্তুর প্রয়োজনে ব্যাকগ্রাউন্ডে বর্ণমালার কোলাজ টেক্সসার ব্যাবহার করেছেন আপন মহিমায়। এ প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলো মূলত জল রং, চারকোল, অ্যাক্রেলিক ও মিশ্র মাধ্যমে আঁকা। মোট ৩৪টি চিত্রকর্ম নিয়ে এ প্রদর্শনী চলবে রবিবার বাদে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সব দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
