রাজধানীর বারিধারায় একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আসাদুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আসাদুল গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্লিনিকের কর্মচারীদের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে শাহবাগের ওসমানি উদ্যানের পুকুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (২৫) এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে পল্লবীর উত্তর কালশী এলাকায় বাহরাইন প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই তিন লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভাটারা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে বারিধারার জে ব্লকের ৮ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ির ‘প্রত্যয় মাদক নিরাময় ক্লিনিক’ থেকে আসাদুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। মাদকাসক্তের কারণে আসাদকে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঐ ক্লিনিকে তার পরিবারের সদস্যরা ভর্তি করায়। সেখানেই চিকিত্সা চলছিল তার। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আসাদুল তার রুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এসময় ক্লিনিকের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত আড়াইটার দিকে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা লাশ ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্টে গলায় ফাঁসের চিহ্ন নেই।
এদিকে আসাদুলের চাচাতো ভাই শামসুজ্জামান জানান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন আসাদুল। লেখাপড়া করা অবস্থায় তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর তার আর লেখাপড়া হয়নি। পরে তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরে আসাদুল ইসলামের বাড়ি।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার লুত্ফুল কবীর জানিয়েছেন, আসাদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম ভাটারা থানায় ঐ ক্লিনিকের মালিকসহ কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগটি এখনও মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিত্সক জানিয়েছেন, ‘আত্মহত্যার’ কারণে আসাদুলের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, শাহবাগ থানার এসআই আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওসমানি উদ্যানের পুকুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (২৫) এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পরনে বাটিকের সালোয়ার-কামিজ ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় ঐ তরুণীর জিহ্বা বের হয়ে ছিল। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে কেউ তাকে হত্যা করে সেখানে লাশ ফেলে দেয়। পুলিশ লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন উত্তর কালশীর টেকের বাড়ি বস্তি থেকে তানিয়া আক্তার (২২) নামের গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে লাশ নিহতের পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দেড় বছর আগে একই জেলার উত্তর মতলব থানাধীন মোহনপুরের বাদুরপুর গ্রামের বাজিন্দা আলী ইসলাম মিজির ছেলে রতন মিজির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রতন মিজি বাহরাইন প্রবাসী। বিয়ের সময় তানিয়াকে বাহরাইন নিয়ে যাবে বলে পাকাপোক্ত কথা হয়। আগামী মাসের শুরুতেই তানিয়ার বাহরাইন চলে যাওয়ার কথা। তানিয়া চলে গেলে রতন মিজি তার পরিবারকে আর টাকা পয়সা নাও দিতে পারে। এমন আশঙ্কায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন তানিয়াকে বাহরাইন যেতে বাধা দেয়। কিন্তু তানিয়া স্বামীর সঙ্গে বাহরাইন থাকতেই ইচ্ছুক। কোনক্রমেই বাহরাইন যাওয়া বন্ধ করতে না পেরে শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর-ননদ তানিয়াকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিতে পারে। তারা এ ব্যাপারে পল্লবী থানায় মামলা করবেন।
তবে তানিয়ার লাশ উদ্ধারকারী পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ফারুকুজ্জামান মল্লিক বলেন, উদ্ধারকালে তানিয়ার লাশটি ঘরের সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল। প্রাথমিকভাবে তানিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
