১৪ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:৪০
 
 
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের খেলা শেষে ১৪ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনেই জিম্বাবুয়েকে ২৪০ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। দিনের শেষভাগে ব্যাটিং-এ নেমে ১২ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে ২১৩ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং-এ নামে স্বাগতিকরা। কিন্তু দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের দিন ৮ রান করা ওপেনার শামসুর রহমান কোনো রান যোগ না করেই জিম্বাবুয়ের পেসার পেনিয়াঙ্গারার দ্বিতীয় শিকার হন। দিনের শুরুতে উইকেট হারানোর বেদনা খুব দ্রুতই দূর করেন আগের দিন ১৪ রানে অপরাজিত থাকা মমিনুল হক। সাথে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ব্যাটিং-এ প্রোমোশন পাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে ব্যাট হাতে ইনিংস মেরামত করতে থাকেন তারা। ধীরে ধীরে এই জুটি স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৬৩ রান। জুটিটি আরও বড় হতে পারতো, যদি রান আউটের ফাঁেদ না পড়তেন মমিনুল। টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৩ রানে ফিরেন মমিনুল। 
মমিনুলের বিদায়ে উইকেটে আসেন বল হাতে ছয় উইকেট পাওয়া সাকিব আল হাসান। তবে বল হাতে সফল হলেও, ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন তিনি। মাত্র ৫ রান করে রান আউট হন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ১১৪ রানের মাথায় চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। 
পঞ্চম উইকেটে জুটি বেধে ভালোভাবেই স্কোর বোর্ডে রান তুলছিলেন রিয়াদ ও মুশফিকুর। এরমাঝে টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম হাফ-সেঞ্চুরির দেখাও পান রিয়াদ। অর্ধশতকের পরও নিজের ইনিংসটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন রিয়াদ। কিন্তু ডিআরএস-এর ফাঁদে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে ৬৩ রান করেন তিনি। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে রিয়াদ যখন আউট হন তখন বাংলাদেশের স্কোর ১৭৮ রান। তাই প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের করা স্কোরটা ছাড়িয়ে যাবার দায়িত্ব বর্তায় মুশফিকুরের কাঁধে। 
শুভগত হোমকে নিয়ে সেই দায়িত্বটা পালনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিকুর। কিন্তু শুভগত ১৪ রানে বিদায় নিলে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। সেই চিন্তা আরও বড় হয় দলীয় ২২৬ রানে মুশফিকুরের বিদায়ে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশত পাওয়া ইনিংসে ৬৪ রান করেন দলের অধিনায়ক। 
মুশফিকুরের বিদায়ের পরপরই শূন্য রানে আউট হন শাহাদাত। তবে নবম উইকেটে ১৮ রানের মহামূল্যবান এক জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে লিড এনে দেন তাইজুল ইসলাম ও অভিষিক্ত যুবায়ের হোসেন। এরপর ১০ রানের ব্যবধানে তাইজুল ও আল-আমিন আউট হলে ২৫৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তাইজুল ১৯, আল-আমিন ৯ রানে বিদায় নেন। আর ৭ রানে অপরাজিত থাকেন যুবায়ের। জিম্বাবুয়ে পক্ষে ৫৯ রানে ৫ উইকেট নেন পেনিয়াঙ্গারা। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ৫ উইকেট পান পেনিয়াঙ্গারা। 
প্রথম ইনিংসে ১৪ রানে পিছিয়ে থেকে দিনের শেষ মুর্হূতে ২ ওভার খেলার সুযোগ পায় জিম্বাবুয়ে। ১২ বল থেকে মাত্র ৫ রান করতে পারেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার সিবান্দা ও চাকাবা। ফলে ৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে।