রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ জরুরি:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:১১

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট খুবই জটিল। একতরফাভাবে এর সমাধান সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলা আয়োজিত ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ডফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। গ্র্যান্ড ফিনালেতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন হয়।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ইতোমধ্যেই কিছু ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে এই ইস্যুতে রাশিয়া এবং চীন তার পূর্বের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অভ্যন্তরীণ কৌশল তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এই সমস্যা অনেকদিন ধরে চললে এই অঞ্চলে নিরাপত্তাজনিত হুমকি দেখা দিতে পারে। যা কোনো রাষ্ট্রের জন্যেই মঙ্গলজনক হবে না।

মন্ত্রী আরো বলেন, অনেকেই মনে করেন জাতিসংঘে কোনো সংকট উত্থাপন করলেই তার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৭৮ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আমরা জাতিসংঘে গেলেও ভারত তখন জাতিসংঘের কোনো চাপ ভ্রুক্ষেপ করেনি। ঠিক একইভাবে ইরান-ইরাক এবং সিরিয়া সংকটও কিন্তু জাতিসংঘ সুরাহা করতে পারেনি। শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গা সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয়ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারকে আমরা একটি ‘সেফ জোন’ তৈরিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ উদারতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিলে পৃথিবীতে বড় ধরনের এক ‘গণহত্যা’র ইতিহাস তৈরি হতো। রোহিঙ্গাদের উপর সরকারের মদদে মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান ছিল সম্পূর্ণ মানবাধিকার বিরোধী। টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।