অপহৃত যশোরের ব্যবসায়ী ঢাকায় উদ্ধার, গ্রেফতার ৬
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘অপহরণের পরে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। লাথি দিয়ে দুই তলার উপর থেকে ফেলে দেয়া হয়। অনেক চিত্কার চেচাঁমেচি ও অনুনয় বিনয় করি তাতেও ওদের মন গলেনি’। কথাগুলো বলছিলেন অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার পাওয়া যশোরের ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা ও ৫ নম্বর ফুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এভাবেই বন্দী অবস্থায় তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
তবে অপহরণকারী দলের সদস্য গ্রেফতার হওয়া বৃষ্টি আক্তার এ প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, ‘হাবিবুর রহমানের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই আমার অবৈধ সম্পর্ক। মাঝে মধ্যে সে মানিকনগরে আমার বাসায় এসে অবৈধ সম্পর্কে মিলিত হয়েছে। সে আমাকে রক্ষিতার মতো ব্যবহার করেছে।
হাবিবুর রহমান অনেক টাকার মালিক হওয়ায় কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে কিছু টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছি।’ তবে হাবিবুরের দাবি, তিনি বৃষ্টিকে আগে কখনও দেখেননি, চেনেনও না। অপহরণের পর প্রথম দেখেছেন।
ভোরে মুগদার মানিকনগর থেকে অপহূত হাবিবুরকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- আব্দুল মান্নান পলাশ (৩২), জিএম জুবায়ের আহমেদ (২২), মজিবুর রহমান (৪৪), মাহবুবুর রহমান জিসান (১৭), জান্নাতুল ফেরদৌস জোসনা (৩২) ও বৃষ্টি আক্তার (১৭)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
অপহূত হাবিবুর রহমান দাবি করেন, ‘২০০৬ সালের দিকে আমি ইউপি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় জোসনা ইন্ডিয়ান লাগেজের ব্যবসা করতেন। ওই সময়ে আমি জোত্স্নাকে কাস্টমসের কাজে নানা ধরনের সহযোগিতা করেছি। সেই সুবাধে সে আমাকে ভাই বলে সম্মোধন করত। আরেক অপহরণকারী পলাশ আমার জামাইয়ের মামা। তার সঙ্গে আমার জামাইয়ের ইমপোর্টের ব্যবসা ছিল। প্রায় ৬ মাস আগে ওই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সে আমাকে দায়ি করে। তবে অপহরণকারী বৃষ্টিকে আমি চিনিনা। তাকে আমি ওই বাসায় প্রথম দেখেছি।’
যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানিয়েছে, হাবিবুর একজন ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য অপরহরণকারীরা কৌশলে যশোর থেকে ব্যবসায়িক কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসেন। গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে যশোর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। বিমানবন্দর থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে কমলাপুর এলাকা থেকে তাকে মুগদার মানিকনগরের একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে। পরে তার কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপন চাওয়া হয়। না দেয়ায় ব্যাপক মারপিঠ করে হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম হাবিবুরের স্বজনরা মতিঝিল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাকে উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে সক্ষম হন।
যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইমলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত পলাশ একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। অন্যরা অপহরণকারী দলের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করাই তাদের একমাত্র পেশা।
