বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানা গেলেও ঠিক কোথায়, কোন পথে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল সে বিষয়ে এতদিন তথ্য মেলেনি। তবে এবার জানা গেলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা কিংবা তার জেলা সফরের সময় হামলার ছক কষে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এ ব্যাপারে জেএমবিকে সাহায্য করেছে হরকাতুল জিহাদী ইসলামী (হুজি)। আর এই যড়যন্ত্রে মদদ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বর্ধমান বিস্ফোরণের পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (এনআইএ) তদন্ত করে এসব তথ্য জানতে পেরেছে। সমপ্রতি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। জানা গেছে, এই বিষয়গুলো জানানো হবে বাংলাদেশ সরকারকে। এসব তথ্য বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে বাংলাদেশে যেতে পারে এনআইএ।
বর্ধমান বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট, বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাকিস্তানি প্রশিক্ষকরা। শেরপুর জেলার একাধিক ঘাঁটিতে চলছে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ। জঙ্গি কার্যকলাপে জেএমবির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ২৫-৩০ জনের একটি নতুন দলকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পাকিস্তানের মৌলানা মুহম্মদ আবদুল তাহির। জঙ্গি কর্মকাণ্ডে আসামের একটি সংগঠন জড়িত থাকায় বাংলাদেশ সংলগ্ন আসামে জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। কারণ এখান থেকেই বহু যুবক-যুবতীকে বাংলাদেশ পাঠানো হয়েছে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য। রিপোর্টে প্রকাশ, উলফাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে জামায়াতে ইসলামী। এবছরের আগস্টে শেরপুরেই উলফার সঙ্গে বৈঠক হয় জামায়াতে ইসলামীর। উদ্দেশ্য অস্ত্র কেনাবেচা। এজন্য ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে উলফাকে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্য নিয়ে তারা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে যুক্ত জঙ্গিরা কিভাবে বাংলাদেশে নাশকতার ছক সাজিয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে তথ্য দেবে সম্ভাব্য কোন পথে হামলা হতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কোনো জনসভা কিংবা জেলা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলার যে ছক কষেছে জেএমবি- সেই প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার ও কিছু জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান পাওয়া গেলেও জানা গেছে, অন্তত শতাধিক বোমা ঢুকেছে বাংলাদেশে। সেই সব বিস্ফোরক জঙ্গিরা বাংলাদেশে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তা জানাই এখন বাকি। জানা গেছে, জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক জন আত্মঘাতী ‘ফিদায়ে’ জঙ্গিও রয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, জেএমবি, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের (জেএমজেবি) মতো জঙ্গি সংগঠনের টাকা পশ্চিমবঙ্গ, আসামে হুন্ডির মাধ্যমে ঢোকাতে সাহায্য করছে তাদেরই সহযোগী সংগঠন ‘আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ’ (আহাব)। বর্ধমানের খাগড়াগড় কাণ্ডে জড়িতদের জন্য টাকা এসেছিল এই পথেই। বর্ধমানের বিস্ফোরণস্থল এবং আশ-পাশের জঙ্গি ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে ওই সংগঠনের নেতা আসাদুল্লা আল গালিবের লেখা একটি পুস্তিকার বেশ কিছু কপিও পেয়েছে তারা। পুস্তিকার সূত্র ধরে গ্রেফতারকৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন হুন্ডির মাধ্যমে জঙ্গিদের টাকা পাঠিয়েছে ওই সংস্থা। সেই টাকার একটি অংশ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে।
