ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে : ওবামার হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৪৭
 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সোমবার ওমানে দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এমন হুঁশিয়ারির পর দু’দেশের মধ্যে এ বৈঠক হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের আলোচনায় অচলাবস্থা দূর করতে তারা এ বৈঠক করেন।
ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র সময় রয়েছে। তবে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কেমন হবে তা এখনও ঠিক করতে পারেনি তেহরান ও বিশ্ব শক্তি।
আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপর নিজ নিজ দেশের চাপ রয়েছে। তবে ওবামা রবিবার সিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুনরায় বলেছেন, উভয় পক্ষ এখনও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ওবামা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি আমাদের মতপার্থক্য দূর করতে সক্ষম হবো যাতে করে ইরান আবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বলয়ে প্রবেশ করতে পারবে, নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার হয়ে যাবে এবং আমরা নিশ্চিত হব ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না?’
তিনি বলেন, ‘এখনও অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। আমরা সম্ভবত সেগুলো নিরসন করতে পারব না।’
জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের পাঁচ সদস্য ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ও ইরান গত জুলাই মাসে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হ্রাসে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছাতে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়। তবে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে।
পশ্চিমাদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে আণবিক বোমা তৈরি করছে। তবে ইরান এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। তেহরানের দাবি, তারা বেসামরিক কাজে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে।
মাসকাটে কেরি, জারিফ ও ইইউ’র সাবেক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টোন রোববার দুটি বৈঠক করেন। তাদের বৈঠক পাঁচ ঘন্টারও বেশি স্থায়ী ছিলো। 
তবে বৈঠকের পর কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সোমবার পুনরায় আলোচনা শুরু হবে।
চুক্তির জন্য চাপ দিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ-আল খামেনির কাছে ওবামা চিঠি লিখেছেন এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মাসকাটে এ বৈঠক হচ্ছে। চিঠিতে ওবামা লেখেন,তেহরান ও পশ্চিমাদের অভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থ রয়েছে।
মাসকাটে কেরি ও জারিফের বৈঠকের পরদিন জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের পাঁচ সদস্য ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির নেতারা বৈঠক করবেন। পরে চুক্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমার ছয় দিন আগে ১৮ নভেম্বর ভিয়েনায় চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।