রাজধানীর কলাবাগানের ভূতের গলি এলাকায় পুলিশের গুলিতে ফেরদৌস ইসলাম নামে এক ডিশ ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি রাজধানীর ১৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি।
কলাবাগান থানার টহল পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ঐ ডিশ ব্যবসায়ী প্রথমে টহলরত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশও তাকে পাল্টা গুলি করে। এ সময় আহত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। আহত ফেরদৌস ইসলামকে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখন চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ফেরদৌস ইসলাম জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের দক্ষিণ মণিপুরের ৩৩৮ নম্বর বাসায় থাকেন। রবিবার রাত ১০টার দিকে হাতিরপুল এলাকায় এক বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে মিরপুর যাচ্ছিলেন। পথে ভূতের গলিতে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তার পথরোধ করে। অটোরিকশা থেকে পুলিশের পোশাক পরা দু’জন ও একজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি নামেন। তার সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করলে অটোরিকশার আরোহীরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেন। এ সময় ফেরদৌস জানান, তিনি রাজধানীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি। পেশায় ঠিকাদার। পরিচয় জানার পরও ঐ পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে উভয়পক্ষে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা ছেড়ে দিলে ফেরদৌস মোটরসাইকেল নিয়ে এগিয়ে যান। কিছুটা এগুনোর পর ভূতের গলি মসজিদের কাছে একটি পুলিশ ভ্যান তাকে থামার নির্দেশ দেয়। সেখানে তার দেহতল্লাশি করে পিস্তল ও সঙ্গে থাকা প্রায় ১০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য তার দুই পায়ে শটগান ঠেকিয়ে গুলি করেন। পরে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে পুলিশ প্রহরায় ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুটা ভিন্ন বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কলাবাগান থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলি বৈধ বলে ফেরদৌস দাবি করেছেন। তবে মিরপুর থানা পুলিশ তাদেরকে জানিয়েছে, সম্প্রতি বৈধ এই অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। ফেরদৌস ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলেও ধারণা করছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মিলবে বলে দাবি করেন কলাবাগান থানার ওসি।
