রাজধানীতে আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৪, ২২:০৪
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে ঢাকায় সন্দেহভাজন আরেক জঙ্গি গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তার নাম আহমেদ ওয়াদুদ জুম্মন ওরফে সাইফুল ওরফে অর্ণব (৩০)। তিনি জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের একজন সক্রিয় সদস্য।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেরশাহ শূরী রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ২ হাজার ইউএস ডলার, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মডেম, হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, মোবাইল ফোন, চাকু, ম্যাকগাইভার নাইফ ও বিভিন্ন ধরনের বই উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে মিলিটারী ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা শেষ করেন অর্ণব।
এরপর তিনি ধানমন্ডির লেক হেড গ্রামার স্কুুলের কম্পিউটার শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। ঐ সময় তার সহযোগী মোরশেদ আলম ও মাসুলের (ছদ্মনাম) সঙ্গে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মোরশেদকে গত ৫ নভেম্বর রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার পর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন,  অর্ণব মূলত ওয়েব সাইটের অন্য ভাষার জঙ্গি বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ, বানান ও গ্রাফিক্সের কাজ করতেন। সহযোগি মাসুল তাকে বিভিন্ন ভাষার বক্তব্য সমূহ সরবরাহ করতেন। পরে গ্রাফিক্সের কাজ শেষে সরবরাহ করলে সহযোগি মিডিয়া প্রধান মোরশেদ আলম বিভিন্ন ব্লগে ১১৭ টি বিভিন্ন ইউজার নামে উগ্র সামপ্রদায়িক বক্তব্য পোস্ট করা হতো। সমপ্রতিক সময়ে আল-কায়দা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি একটি বার্তা বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করেন।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, অর্ণব আল-কায়দার ম্যাগাজিন “ইন্সপায়ার” এর ৫ম খন্ড বাংলায় অনুবাদ, গ্রামার ও বানানের ভুলত্রুটি পর্যবেক্ষণ করে “দাওয়া ইলাল্লাহ ফোরাম” এর সাহায্যে বিভিন্ন ব্লগে পোস্ট করতেন। এরা প্রত্যেকেই আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন।
গত ২ অক্টোবর প্রতিবেশী দেশের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ে সন্দেহজনক একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দু’জন নিহত হওয়ার পর ভারতের গোয়েন্দাদের তদন্তে ভারত-বাংলাদেশ জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে।
এরপর ১২ জঙ্গির সন্ধানে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ পুরস্কার ঘোষণা করে, এর মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি বলে ভারতের গোয়েন্দাদের দাবি। এদের মধ্যে সাজিদ নামে একজনকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে তার ভাইকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। এরা নিষিদ্ধ জেএমবির সদস্য বলে ভারতের গোয়েন্দাদের দাবি।  
আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের নাম প্রথম আলোচনায় আসে গত বছরের শেষ দিকে। গত বছরের আগস্ট মাসে বরগুনা থেকে এ সংগঠনের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ ৩১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে জসীমের বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিডিসহ উসকানিমূলক বই উদ্ধার করা হয়। তখন গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘জিহাদের’ মাধ্যমে সরকার হটানোর লক্ষ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম থানা থেকে অস্ত্র লুট ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
জসীমসহ এ সংগঠনের ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রও দিয়েছে পুলিশ।