রাজধানীর ধানমন্ডিতে যশোর-৫ আসনের সরকারি দলের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম শামারুফ মাহজাবিন কনা (২৪)। তিনি সাবেক এমপির বড় ছেলে হুমায়ুন সুলতানের স্ত্রী।
টিপু সুলতানের পরিবার এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেলেও কনার বাবা পুলিশকে বলেছেন মৃত্যুতে তার সন্দেহ আছে। দুই বছর আগে পারিবারিক আয়োজনে হুমায়ুন সুলতানের সঙ্গে কনার বিয়ে হয়।
কনা রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি শেষ করার পর বিএসএমএমইউতে এফসিপিএস ডিগ্রি নিতে ভর্তি হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার পৌনে ৪ টার দিকে কনাকে ধানমন্ডির ৬ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপমৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশও সেন্ট্রাল হাসপাতালে যায়। সন্ধ্যায় রিপোর্ট লেখার সময় লাশ সেখানেই ছিল।
টিপু সুলতান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কনা নিজের ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। দুপুরে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেলে তাকে বাথরুমের গ্রিলের জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তারা কনাকে উদ্ধার করে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে কনার কয়েকজন সহপাঠী ছাড়া বাবা কিংবা শ্বশুর বাড়ির কাউকে দেখা যায়নি।
কনার শাশুড়ি জেসমিন আরা বেগম হলি হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক।
আর কনার বাবা নুরুল ইসলাম পিডব্লিউডির প্রকৌশলী। মা বছর খানেক আগে মারা গেছেন।
কনার সহপাঠী ডালিয়া নওশীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, কনার পিঠে তারা জখমের চিহ্ন দেখেছেন। আর গলায় ফাঁস দেয়ার কথা বলা হলেও ক্ষত বড় নয়। তাই এই মৃত্যু নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। তারা ধারণা করেন কনাকে হত্যা করা হয়েছে।
কনার মামা শহীদুর হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের সন্দেহ তার ভাগ্নীকে হত্যা করা হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর জানান, লাশ সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এখনো হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কনার বাবা নুরুল ইসলাম টেলিফোনে তাকে (ওসিকে) বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তাই পোষ্টমর্টেমের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে টিপু সুলতানের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বামী স্ত্রীর কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
