ঋতু কেন্দ্রিক উত্সব নবান্ন। হেমন্তে নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় এই উত্সব পালন করা হয়। এক কথায় বলতে গেলে, নবান্ন হলো নতুন ধান কেটে নতুন চালের ভাত খাওয়ার উত্সব। শহরে ঋতু কেন্দ্রিক এই উত্সবকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয় পহেলা অগ্রহায়ণে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নবান্ন কথনে উদযাপিত হয় নবান্ন উত্সব। মরতজা কবীর মুরাদের বাঁশি আর তবলার ধ্বনিতে সকাল ৭টায় শুভ সূচনা হয় উত্সবের। এরপর একে একে গান, নৃত্য আর আবৃত্তির মধ্যে দিয়ে চলে নবান্ন-বন্দনা।
নবান্ন প্রাচীন উত্সব হলেও, অনেক উত্সবের মাঝে এই উত্সবটি ম্লান হতে চলেছে। জাতীয় নবান্ন উত্সব পর্ষদের আহবায়ক শাহরিয়ার সালাম আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে এই উত্সবটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটি ঘোষণা করে উদ্যাপন করার কথা বহু বছর ধরে বলে আসলেও তা কার্যকর হয়নি। এমনকি আমাদের দীর্ঘদিনের–পহেলা অগ্রহায়ণকে জাতীয় নবান্ন উত্সব দিবস ঘোষণা করার দাবিটিও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে অগ্রহায়ণ মাসকে ‘নবান্ন উত্সব দিবস’ ঘোষণা করা উচিত।
আনন্দ-উল্লাস ও উত্সবের বার্তা নিয়ে আসে নবান্ন। ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উত্সবে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নবান্ন উত্সব পালিত হলো। এই সময়ে কৃষকের ঘরে নতুন ফসল আসে, সোনালী ফসলে ভরে ওঠে কৃষকের গোলা। ঘরে লাগে খুশির আমেজ; আর সেই খুশির বহিঃপ্রকাশ ঘটে নবান্ন উত্সবের মাধ্যমে। কৃষকের সেই উত্সব সকল মানুষের উত্সবে পরিণত হয়। জাতীয় নবান্ন উত্সব উদযাপন পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান বলেন, শেকড় ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না, তেমনি ঐতিহ্যকে লালন না করলে সংস্কৃতি ও তার আপন চরিত্রে বিকশিত হতে পারে না। তাই আমরা সচেতনভাবে নাগরিক জীবনে এই উত্সব পালন করছি। অনেকের কাছে এটা অবহেলিত হলেও আমাদের কাছে এটি পূর্বপুরুষের দায়বদ্ধতা। উত্সবে নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বাউলগান, আদিবাসীদের পরিবেশনা, ঢাক-ঢোল, পিঠা-পায়েশ, মুড়ি-মুড়কি, নবান্ন কথন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সকালের অনুষ্ঠানমালা চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে বেলা তিনটায় পুনরায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
