স্ত্রী হত্যা: টিপুর ছেলে রিমান্ডে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৪, ২২:০৮
সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান পুত্র হুমায়ূন সুলতান সাদাবকে তিন দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনের শুনানি শেষে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপরদিকে ডা. শামারুখ মাহজাবিন হত্যা মামলার আসামি খান টিপু সুলতান ও তার স্ত্রী ডা. জেসমিন আরা বেগমকে চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার বিচারপতি সৈয়দ এবি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার জামিন মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টে খান টিপু সুলতান দম্পত্তি আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট একে ফজলুল হক খান ফরিদ ও অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। তারা বলেন, মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। তার স্ত্রী একজন চিকিত্সক। তারা জামিন পেতে পারেন।
জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরউল্লাহ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, ডা. মেহজাবিনের শাশুড়ি হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক জেসমিন আরা অকালীন ছুটির আবেদন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এই আবেদনের বিপরীতে ডা. মেহজাবিনকে হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ করে হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।
রবিবার বেলা ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে ইস্কাটন গার্ডেন রোডে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। এসময় ডা. মেহজাবিনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিরব প্রতিবাদ জানান এবং এই ঘটনাকে হত্যাকান্ড হিসাবে আখ্যায়িত করে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
ডা. মাহজাবিনের মামা কাজী ফিরোজুর রহমান মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, তার ভাগ্নিকে খান টিপু সুলতান গলা টিপে হত্যা করেছেন। ওর মতো মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে এখন প্রশাসনের সহায়তায় আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিয়ের সময় মাহজাবিনের স্বামীর পরিবারকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার মালপত্র কিনে দেয়া হয়। এরপর ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজ দেয়া হয়েছে। এসি কেনা বাবধ একলাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এরপরও আমার ভাগ্নি ওই পরিবারের লোকদের মন পায়নি।
মানববন্ধনে নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোয়েব আলম বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত ভদ্র ছিল। তার মতো মেধাবী মেয়ে আত্নহত্যা করেছে- এটা আমি বিশ্বাস করি না।
কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তার মৌন সম্মতিতেই মানববন্ধন করা হয়েছে।
ছাত্রীর স্মৃতিচারণ করে তিনিও বলেন, এমন মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজের চাপের কারণে মানববন্ধনে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আর মাহজাবিনের শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে এ ঘটনার পর থেকে তিনি অকালীন ছুটির আবেদন করেছেন। ছুটির আবেদনের বিষয়ে তারা এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে ডা. সুলতানা, ডা. ডালিয়াসহ কয়েকজন সহপাঠী বলেন, এ রকম ভালো মানসিকতার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। মাহজাবিনের স্বামীর বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেখানো হতে পারে। এছাড়া মাহজাবিনের শাশুড়ি একজন সিনিয়র অধ্যাপক হওয়ায় তিনিও এই ময়না তদন্ত রিপোর্টে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এজন্য ময়না তদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই পুলিশকে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্তের দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ধানমন্ডি থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রিমান্ডে পাওয়া আসামি হুমায়ন সুলতান সাদাব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি আরো জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ থেকে পাঠানো ময়না তদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে রবিবার পর্যন্ত পৌঁছেনি।
এদিকে,