নওগাঁয় সহোদরসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন, গ্রেফতার ৮

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:৪১
 
নওগাঁ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ওহিদুর রহমান (৩৮) ও তার ছোট ভাই ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি শাহীন হোসেনকে (৩৪) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের দূর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রাচী গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। সোমবার দুপুরে নিহতদের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— চকপ্রাচী গ্রামের মৃত মফিজ সরদারের ছেলে আব্দুর রহমান (৪০), হাবিবুর রহমানের ছেলে এরশাদ হোসেন (৪০), সামাদ আলীর ছেলে আফতাব আলী (৩৫), হোসেন আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন (৩২), মাহাতাব হোসেনের ছেলে রিপন (২৮), তাজিম উদ্দীনের ছেলে মোতালেব হোসেন (২৮), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মহাতাব হোসেন (২৬) ও ওসমানের ছেলে লোকমান হোসেন (৩৫)।
পুলিশ ও নিহতদের পরিবার সুত্রে জানা যায়, ওহিদুর ও শাহীন প্রতিদিনের ন্যায় রাতে শহর থেকে দূর্গাপুর এলাকার মাঠের মধ্য দিয়ে হেঁটে বাড়ী ফিরছিলেন। দূর্গাপুর ও চকপাচী দুই গ্রামের মাঝখানের মাঠে সরিষার ক্ষেতে দুর্বৃত্তরা তাদের দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। ওহিদুরের দুই হাতের ক্বজি, পায়ের রগ কাটা ও মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শাহীনের বাম হাতের ক্বজি ও পায়ের রগ কাটা রয়েছে। সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ সুপার কাইয়ুমুজ্জামান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাকিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় নিহতদের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে মডেল থানায় ২৩জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে শহরের নওজোয়ান মাঠে নিহত সহোদরের নামাজে জানাজা এবং পরে গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৯৮৪ সাল থেকে একটি গভীর নলকুপকে কেন্দ্র করে আয়নাল নামে একজন খুন হওয়ার মধ্য দিয়ে ওই গ্রামে বিবদমান দুটি প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হয়। প্রায়ই এ দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কলহের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে ইতিপূর্বেও কয়েকবার সড়ক অবরোধসহ কয়েকবার মারপিটের মতো ঘটনা ঘটেছে। মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।