জজ মিয়ার সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন: আদেশ রোববার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ২৩:৫৪

আগামী রোববার ২৩ নভেম্বরে জজ মিয়ার সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে  আদেশ দেবে হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের বেঞ্চে শুনানির পর আদেশের এই দিন ধার্য্য করা হয়। আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। সেই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরের বছর ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বিরকোট গ্রাম থেকে জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায়ের পর জজ মিয়াকে আসামি করেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কিন্তু পরে অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, ওই মামলাকে ‘ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য’ বিগত চারদলীয় জোট সরকারের নির্দেশে সিআইডি জজ মিয়াকে নিয়ে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জজ মিয়াকে আসামি থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া।
এরপর অধিকতর তদন্তে সর্বমোট ৫২ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন সিআইডি পুলিশের বিশেষ সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল কাহহার আকন্দ। তখন জজ মিয়া ও তার মা-বোনকে সাক্ষী করা হয়। সম্প্রতি জজ মিয়াসহ তার মা জোবেদা খাতুন ও খোরশেদা আক্তার আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা দুজনই বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে জজ মিয়াকে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সাক্ষ্যে জজ মিয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে সিআইডির কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে হুমকি দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিলেন। সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়।
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদও আসামি।