ব্যাংকের উচ্চ সুদহার বিনিয়োগে বড় বাধা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৩

দেশে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না আসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এর  পেছনে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারকে অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছেন উদোক্তারা। ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী ও অন্যতম পুরনো সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (এমসিসিআই) বিনিয়োগ ও দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারকে দায়ী করেছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমসিসিআইয়ের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা না হলে তা বিনিয়োগে গতি আনার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া সুশাসনের দুর্বলতা, প্রশাসনে দুর্নীতি, শ্রম খাতে বিশৃঙ্খলার মত ঝুঁকির বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে তিন মাস অন্তর অন্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে এমসিসিআই। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাসহ বেশকিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। তবে একই সঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজেট বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা, মূল্যস্ফীতি, জিডিপিতে এখনো রাজস্বের অবদানে পিছিয়ে থাকাও চালেঞ্জের। এছাড়া নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মত চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত প্রান্তিকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, স্থিতিশীল বিনিময় হার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকাসহ প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে আলোচ্য সময়ে প্রবাসী আয়ে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকাসহ কিছু সূচকে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। অবকাঠামো খাতে দুর্বলতা, গ্যাস-বিদ্যুত্ সরবরাহে সমস্যা উত্পাদন খাতের অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে। এসব খাতে সরকারের নজর দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সড়ক ও রেল অবকাঠামো, বন্দর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়া, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্প স্থাপনে ভূমির অপ্রতুলতার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।