ডা. শামারুখের হত্যা: মানবন্ধনে ডায়েরি পরীক্ষার জন্য আবেদন

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৪, ২২:০০
 
সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবিনের হত্যার তদন্ত ও সুষ্ঠ বিচার দাবি করে হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানবন্ধন করেছে।
বুধবার দুপুর দেড়টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘পোস্টমর্টেমের নিরপেক্ষ রিপোর্ট ও সুষ্ঠ তদন্ত চাই’,  ‘ডা.শামারুখ হত্যা কি মানবাধিকার লংঘন নয়?’ ‘আর কত মেয়ের রক্ত দিয়ে এ সমাজ রঞ্জিত হবে’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড বুকে ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করেন।
মানববন্ধনে কলেজের অধ্যাপক ডা. মহিবুর রহমান বলেন, সর্বক্ষেত্রেই ক্ষমতাবানরা প্রভাব খাটায়। এই মামলার বিবাদীরাও প্রভাবশালী। আমাদের দাবি, বাদিপক্ষ যেন সুষ্ঠ বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। শামারুখকে আমি পড়িয়েছি। সে আত্মহত্যা করার মত দুর্বল মন মানসিকতার মেয়ে নয়। শামারুখের মামা কাজী ফিরোজুর রহমান বলেন, খান টিপু সুলতানের লোকেরা হুমকি দিচ্ছে। বলছে-মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি ভালো হবে না। ডা. সোহাগ বলেন, ডা. শামারুখ মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিল। সবার মাঝে আলো ছড়িয়ে দিতেই চিকিত্সক হয়েছিল সে। দেশ একজন চিকিত্সককে হারিয়েছে।
এদিকে, ধানমন্ডি থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ডা. শামারুখ মেহেজাবিনের বেডরুম থেকে উদ্ধার করা ডায়েরিটি পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ডা. শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন-এমন মন্তব্য ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। মারা যাওয়ার আগে ডায়েরিতে লিখে যাওয়া এসব বক্তব্য মামলার বাদী নূরুল ইসলাম তার মেয়ের নয় বলে দাবি করেছেন। একারণে লেখা সিআইডি’র হস্ত লেখা বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
গ্রেফতারকৃত ডা. শামারুখের স্বামী হুমায়ন সুলতান সাদাবের ৩ দিনের রিমান্ড বুধবার শেষ হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়নের কাছ থেকে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে।
যদিও হুমায়ন বারবার বলেছেন, শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু শাখারুখের এই আত্মহত্যার পেছনে হুমায়ন যথেষ্ঠ প্ররোচনা দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ন আরো জানান যে, বিয়ের সময় তাকে ব্যারিষ্টার বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তার বাবা খান টিপু সুলতান। পারিবারিক মর্যাদা বাড়ানোর জন্যই তার বাবা এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়া বিয়ের সময় শামারুখের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ঘরে ফার্নিচার, ফ্রিজ, এলইডি টিভি এবং ২০ ভরির স্বর্ণালঙ্কার নিয়েছিলেন। যৌতুক নয়, শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বেচ্ছায় উপহার হিসাবে এসব সামগ্রী দিয়েছিল বলে হুমায়ন পুলিশকে জানান। 
পর্যন্ত ময়না তদন্তের রিপোর্ট ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে পৌঁছেনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, লাশের ময়না তদন্তের পাশাপাশি হিস্ট্রো প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য গলা থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টের সাথে হিস্ট্রো প্যাথলজি পরীক্ষার রিপোর্টও পাঠানো হবে।
মৃত ডা. শামারুখ মেহেজাবিনের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, খান টিপু সুলতানের লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। যশোর বিমানবন্দর সড়কের আরিফপুরে তার বাসার সামনে দিনে ও রাতে টিপু সুলতানের ক্যাডাররা মোটর সাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকেও ১০/১২ জন মোটরসাইকেলে করে মহড়া দিয়ে যায়। এসময় তারা গালাগালিও করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী শরিফুল ইাসলাম বলেন, সোমবার তাকে তিনদিনের রিমান্ড নেয়া হয়। রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ায় আজ তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
বুধবার খান টিপু সুলতানের ধানমন্ডির বাসায় শামারুখের মালামাল জব্দ করার কথা ছিল। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বাদীপক্ষ একটি তালিকা দেয়ার কথা। কিন্ত সেটি দেয়নি। মামলার বাদী আসার পর ঐ বাসায় গিয়ে শামারুখের মালামাল জব্দ করা হবে।
গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মেহেজাবিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।