বাংলাদেশ-এই ভূ-খণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে পলি জমে জমে। এই অঞ্চলে মানুষের মনও তাই পলির মতই নরম। এই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার লড়াই, বঞ্চনার শিকার মানুষের মন মরে যাচ্ছে। কিন্তু এত অস্থিরতায়ও মানুষ জেগে উঠছে স্বকীয়তায়। আদি চরিত্রে। জীবনের এই কথাই তুলে আনতে চেয়েছেন শিল্পী কালিদাস কর্মকার তার এবারের একক চিত্র প্রদর্শনী ‘পাললিক আত্মা’য়।
বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এর আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শিল্পী কালিদাস কর্মকারের ‘পাললিক আত্মা’ শীর্ষক একক চিত্রকলা প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে সাতাশ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
শিল্পী বললেন, আগামী ১০ জানুয়ারি তার ৭০তম জন্মদিন। সে কথা ভেবে প্রদর্শনীতে ৭০টি চিত্রকর্ম স্থান দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছে দুটি ইন্সটলেশন আর্ট। এগুলোর নাম হচ্ছে ‘পাললিক হারমনি’ ও ‘পাললিক মিছিল’। প্রদর্শনী আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
শিল্পী কালিদাস কর্মকার জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালে ফরিদপুরে। তিনি ১৯৬৯ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস এন্ড ক্রাফট্স থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এ পর্যন্ত তার ৬৪টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন।
শিল্পী কালিদাস কর্মকারের ছবিতে গহিন প্রশ্ন যত আছে, উত্তর খোঁজার প্রয়াস তত নেই। ছবিতে অতল আবেগ আছে, যুক্তির বেড়াজাল নেই। রূঢ় বাস্তবের নিঃসংকোচ প্রকাশ আছে, নান্দনিকতার অনুরণন নেই। কালিদাসের ছবিতে শুধু বেদনা এবং বেদনা প্রকাশের ব্যাপারটিই মুখ্য নয়, বরং এটি সময়, স্থান এবং অবিশ্রান্ত মানবীয় অভিজ্ঞতার মধ্যকার সম্পর্ককেও মূর্ত করে তোলে। হতাশ আকাঙ্ক্ষা, তান্ত্রিক শিল্প-নৈপুণ্য, সযত্নে লালিত স্মৃতি এবং প্রতীকী অনুসন্ধানের সম্মিলিত পরিবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয় তার চিত্রকলায়। তার কাজে বিভিন্ন সামান্য উপাদান, বুনট, আকার এবং রঙের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ দেখা যায়। পলিমাটির দেশ বাংলাদেশ, শিল্পী কালিদাসের কাজেও এ দেশের মাটি প্রেরণাদায়ী ভূমিকা রাখে। শিল্পীর উচ্ছ্বাস, অভিব্যক্তি, শুদ্ধতা, বেদনা, স্মৃতি আর একাকিত্ব— এসবই যেন এক পাললিক আত্মার সাতকাহন।
