দুই শিক্ষকের অন্তর্দ্বন্দ্বে রাতভর সংঘর্ষ, ভাংচুর

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৪, ২৩:৪৭

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের অন্তর্দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র  করে ছাত্রদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বুধবার রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এ সংঘর্ষ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। পরবর্তীতে দাঙ্গা পুলিশ ও সিনিয়র শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ছাত্রীদের সিট বন্টনকে কেন্দ  করে প্রভোস্ট অধ্যাপক অসীম কুমার ভদ্র এবং সহকারী প্রভোস্ট শরমিন শৈলীর মধ্যে এ অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বুধবার সহকারী প্রভোস্ট প্রধান প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই ছাত্রীদের ১৩টি সিটের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। অসীম কুমার ভদ্র এ কাজে বাধা দিলে শরমিন শৈলী তার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শরমিন শৈলীর স্বামী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে অসীম কুমার ভদ্রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ শরমিন শৈলীর পদত্যাগ দাবিতে রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। কিছুক্ষণ পর শিক্ষক শৈলীর সমর্থক শিক্ষার্থীরা এসে তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সহকারী প্রক্টর খায়রুল কবিরসহ প্রায় ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দাঙ্গা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। পরে রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হলের ভেতর ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা দুইটি হলের ৩টি রুম এবং বেশ কয়েকটি বিছানা নিচে ফেলে দেয়।
তবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অস্বীকার করে ড. নজরুল বলেন, আগের একটি ঘটনা ধামাচাপা দিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কিছুদিন ধরে উপাচার্যের হয়ে কাজ শুরু করায় তারা আমাকে মেনে নিতে পারছে না। তাই ঘটনাটি সাজিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছাত্রদের হলে ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনটি বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।

এছাড়া সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রীদের ওই হলের সহকারী প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং দোষী শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। মিছিল শেষে এক সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, যতদিন পর্যন্ত দোষী শিক্ষকের শাস্তির ব্যবস্থা এবং সহকারী প্রভোস্ট পদত্যাগ না করবে ততদিন আন্দোলন চলবে।